‘মুখে মাস্ক, হাতে টোল রসিদ,’ বিস্ফোরণের আগে বাদরপুর টোল প্লাজার সিসিটিভি-তে ধরা পড়ল আত্মঘাতী হামলাকারী উমর

দিল্লির লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন আত্মঘাতী হামলাকারী ডা. উমর মহম্মদের গতিবিধির একাধিক নতুন সিসিটিভি ফুটেজ সামনে এসেছে। এর মধ্যে একটি ভিডিওতে বিস্ফোরণের দিন সকালে উমরকে মাস্ক পরে বাদরপুর টোল প্লাজা পার হতে দেখা গেছে। এই হামলার ফলে অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ২০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
বিস্ফোরণের দিন সকালে উমর: সম্প্রতি সামনে আসা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সোমবার সকাল ৮টা ১৩ মিনিট নাগাদ ডা. উমর মহম্মদ সাদা রঙের হুন্ডাই আই-২০ গাড়িটি (Hyundai i20) নিয়ে বাদরপুর টোল প্লাজা পার হচ্ছেন। টোল রসিদ নেওয়ার সময় তাঁর মুখে মাস্ক ছিল।
তদন্তকারীরা জানিয়েছে, হামলার দিন সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ ফরিদাবাদের এশিয়ান হাসপাতালের কাছে শেষবার গাড়িটিকে দেখা যায়। এরপর সেটি বাদরপুর টোল প্লাজা পেরিয়ে ৮টা ২০ মিনিটে ওখলা পৌঁছয়।
পার্কিং লটে রহস্যজনক অপেক্ষা: এরপর দুপুরে গাড়িটি রহস্যজনকভাবে দীর্ঘ সময় লালকেল্লার পাশের পার্কিং লটে কাটায়। দুপুর ৩টা ১৯ মিনিটে গাড়িটি পার্কিং লটে ঢোকে এবং প্রায় তিন ঘণ্টা পর, সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে সেখান থেকে বেরোয়। পুলিশ সূত্রে খবর, গাড়ি পার্ক থাকা অবস্থাতেও উমর এক মুহূর্তের জন্য বাইরে বের হননি। তদন্তকারীদের ধারণা, বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি নিয়ে তিনি অত্যন্ত ভয় পাচ্ছিলেন— হয়তো তল্লাশিতে ধরা পড়ার আশঙ্কা ছিল।
সন্ধ্যা ঠিক ৬টা ৫২ মিনিটে লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের সামনে, নেতাজি সুভাষ মার্গে ধীরে চলতে চলতে গাড়িটিতে বিধ্বংসী বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় আশেপাশের ছ’টি গাড়ি ও দুটি ই-রিকশা-সহ মোট ৯টি যানবাহন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দূষণ পরীক্ষার ফুটেজ: এর আগে ২৯ অক্টোবর ওই আই-২০ গাড়িটির দূষণ পরীক্ষা (PUC) করানোর সিসিটিভি ফুটেজও সামনে আসে, যেখানে তারিক মালিক নামে এক সন্দেহভাজনকে দেখা গিয়েছিল। উমর এবং তারিকের এই কার্যকলাপ ইঙ্গিত দেয় যে হামলাটি দীর্ঘদিন ধরে পূর্ব পরিকল্পিত ছিল। উল্লেখ্য, এই বিস্ফোরণের ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে দিল্লি লাগোয়া ফরিদাবাদ থেকে ২,৯০০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট উদ্ধার হয়েছিল।