দিল্লি বিস্ফোরণের জেরে হাই অ্যালার্ট! খড়্গপুর, টাটানগর সহ দক্ষিণ-পূর্ব রেলের গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলিতে NIA-র মতো নিরাপত্তা

দিল্লির লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনার পরপরই গোটা দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়াকড়ি করা হয়েছে। রাজধানীতে এই জঙ্গি হামলার জেরে পশ্চিমবঙ্গ-সহ প্রতিবেশী রাজ্যগুলিতেও হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। বিশেষত দক্ষিণ-পূর্ব রেলওয়ের আওতাধীন গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলিতে শুরু হয়েছে বিশেষ তল্লাশি অভিযান। খড়্গপুর, হিজলি, মেদিনীপুর, টাটানগর এবং রাঁচি সহ একাধিক স্টেশনে এখন চলছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
খড়্গপুরে চিরুনি তল্লাশি: খড়্গপুর স্টেশনে মঙ্গলবার সকাল থেকেই রেল সুরক্ষা বাহিনী (RPF) ও স্থানীয় পুলিশ চিরুনি তল্লাশি চালায়। বোম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড ও পুলিশ কুকুর ব্যবহার করে যাত্রীদের লাগেজ, ব্যাগ, ট্রেনের ভেতর ও প্ল্যাটফর্মের প্রতিটি কোণায় খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে। সংবেদনশীল সব এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি চলছে।
ট্রেনেও বিশেষ নিরাপত্তা: হিজলি স্টেশনে মঙ্গলবার সকালে ২২৮১২ নিউ দিল্লি–ভুবনেশ্বর তেজস রাজধানী এক্সপ্রেস পৌঁছনোর পরই বিশেষ নিরাপত্তা অভিযান শুরু হয়। আরপিএফ সদস্যরা ট্রেনের প্রতিটি বগি, লাগেজ ও হ্যান্ডব্যাগ পরীক্ষা করেন।
হিজলি আরপিএফ-এর এক আধিকারিক জানান, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনে স্কাউটিং টিম মোতায়েন করা হয়েছে। যাত্রাপথে ট্রেনের ভেতরেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।” এই স্কাউটিং টিম হিজলি থেকে ভুবনেশ্বর পর্যন্ত ট্রেনের সঙ্গে থাকছে এবং সন্দেহজনক কিছু দেখলে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছে।
রেলওয়ে পুলিশ অফিসার প্রশান্ত কীর্তনীয়া জানান, “যাত্রীদের নিরাপত্তাই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করা হচ্ছে যাতে তাঁরা নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করেন।”
দক্ষিণ-পূর্ব রেলওয়ের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্টেশন ও চলন্ত ট্রেন—দুই ক্ষেত্রেই এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু থাকবে।