ভারতীয় রাজনীতির অন্যতম বর্ণময় চরিত্র, দুঁদে সংগঠক এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুকুল রায়ের প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে জাতীয় রাজনীতিতে। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা এবং দীর্ঘদিনের শারীরিক লড়াইয়ের পর কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর প্রয়াণে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
অমিত শাহ তাঁর শোকবার্তায় জানান, মুকুল রায়ের প্রয়াণের খবর শুনে তিনি অত্যন্ত মর্মাহত। রাজনীতির ময়দানে মুকুল রায়ের অভিজ্ঞতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “মুকুল রায়জি দীর্ঘ সময় ধরে জনসেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর প্রয়াণ বাংলার রাজনীতিতে এক অপূরণীয় ক্ষতি। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা রইল।”
তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা-সদস্য থেকে শুরু করে বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি— মুকুল রায়ের রাজনৈতিক সফর ছিল বৈচিত্র্যে ভরা। একসময় তাঁকে বাংলার রাজনীতির ‘চাণক্য’ বলা হতো। পর্দার আড়ালে থেকে সংগঠন সাজানো এবং ভোট কৌশলে তাঁর জুড়ি মেলা ভার ছিল। রেল মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি সংসদীয় রাজনীতিতেও তিনি গভীর ছাপ রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে কেবল বাংলা নয়, দিল্লির রাজনৈতিক মহলেও শোকের আবহাওয়া। বহু দলীয় নেতা-কর্মী হাসপাতালের সামনে ভিড় জমিয়েছেন তাঁদের প্রিয় দাদাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে বিরোধী শিবিরের নেতারাও তাঁর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন।