মুকুল বাবু ছিলেন রাজনীতির জাদুকর!’ মুকুল রায়ের প্রয়াণে আবেগপ্রবণ অধীর চৌধুরী

সোমবার বিকেলের গোধূলি বেলায় নিভে গেল বাংলার রাজনীতির অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র। ৭২ বছর বয়সে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে প্রয়াত হলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা প্রবীণ রাজনীতিক মুকুল রায়। দীর্ঘ রোগভোগের পর তাঁর এই প্রয়াণে বাংলার রাজনৈতিক মহলে শোকের আবহ। রাজনীতির আঙিনায় আদর্শগত লড়াই থাকলেও, মুকুল রায়ের মৃত্যুতে শোকাতুর প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী।

মুকুল রায়ের প্রয়াণের খবর পাওয়ামাত্রই গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন অধীর চৌধুরী। তিনি স্মৃতিচারণা করে বলেন, “মুকুল রায়ের প্রয়াণ বাংলার রাজনীতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি ছিলেন রাজনীতির ময়দানে অত্যন্ত দক্ষ এবং বিচক্ষণ একজন মানুষ। সাংগঠনিক শক্তি দিয়ে কীভাবে একটা দল দাঁড় করাতে হয়, মুকুল বাবু তা খুব ভালো জানতেন। তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত মধুর।” অধীর আরও যোগ করেন যে, রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মুকুল রায় ছিলেন একজন সজ্জন মানুষ, যাঁর অভাব দীর্ঘকাল অনুভূত হবে।

তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্ন থেকে শুরু করে পরবর্তীকালে বিজেপির কেন্দ্রীয় রাজনীতি— সবক্ষেত্রেই মুকুল রায়ের পদচিহ্ন ছিল স্পষ্ট। তাঁকে বাংলার রাজনীতির ‘চাণক্য’ বলা হতো। বিশেষ করে ২০০৯-এর লোকসভা নির্বাচন এবং ২০১১-র পরিবর্তনের লড়াইয়ে তাঁর নেপথ্য ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। প্রাক্তন রেলমন্ত্রী হিসেবে জাতীয় স্তরেও তিনি সফলভাবে কাজ করেছেন। আজ তাঁর মৃত্যুতে দলের রং নির্বিশেষে সব স্তরের নেতারা শোকাতুর। বিকেলে তাঁর নিথর দেহ হাসপাতাল থেকে বের করার সময় অনুগামীদের ভিড়ই বলে দিচ্ছিল, বাংলার রাজনীতিতে মুকুল রায়ের জনপ্রিয়তা ঠিক কতখানি ছিল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy