দীর্ঘ কয়েক দশকের বর্ণময় রাজনৈতিক সফরের অবসান। প্রয়াত হলেন ভারতীয় রাজনীতির অন্যতম কৌশলী ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুকুল রায়। তাঁর প্রয়াণের খবরে শোকস্তব্ধ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ সময় ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহলে মমতার সবথেকে বিশ্বস্ত সেনাপতি হিসেবে পরিচিত ছিলেন মুকুল। এক সময়ের ‘নম্বর টু’ মুকুল রায়ের প্রয়াণে শোকবার্তায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, “মুকুল আমার বড় দাদার মতো ছিল। দলের শুরু থেকে ওর অবদান ভোলার নয়। রাজনীতির ঊর্ধ্বে আমাদের এক পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। ওর চলে যাওয়া আমার কাছে এক ব্যক্তিগত ক্ষতি।”
অন্য দিকে, আজ বিধানসভায় মুকুল রায়ের নশ্বর দেহে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অত্যন্ত গাম্ভীর্যের সঙ্গে প্রয়াত নেতার প্রতি শেষ সম্মান জানান তিনি। মুকুল রায়ের কাছ থেকেই এক সময় রাজনীতির পাঠ নিয়েছিলেন অভিষেক, আজ তাঁর বিদায়বেলায় অভিষেকের উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
রাজনীতির লড়াই থাকলেও সৌজন্যবোধের অভাব দেখা যায়নি বিরোধী শিবিরেও। রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও মুকুল রায়ের প্রয়াণে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, আদর্শগত মতপার্থক্য এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হওয়া সত্ত্বেও মুকুল রায়ের সাংগঠনিক দক্ষতা অনস্বীকার্য। শুভেন্দু তাঁর শোকবার্তায় বলেন, “মুকুল রায়ের প্রয়াণে শোকাহত। ওঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা রইল।” মুকুল রায়ের প্রয়াণে আজ সব দলের নেতারাই তাঁদের লড়াই সরিয়ে রেখে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন এই অভিজ্ঞ রাজনীতিককে। বিকেলের দিকে তাঁর শেষযাত্রায় উপচে পড়া ভিড়ই প্রমাণ করে দিল, দলের রং নির্বিশেষে তিনি ছিলেন সকলের প্রিয় ‘মুকুল দা’।