মীনাক্ষী-সৃজনদের ভিড়েও কি ফাঁকা লাল শিবির? ৩০-এর কম বয়সীদের করুণ দশা নিয়ে সিপিএমের অন্দরেই জোর শোরগোল!

মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, কলতান দাশগুপ্ত কিংবা দীপ্সিতা ধরের মতো তরুণ মুখগুলোকে সামনের সারিতে এনেও কি লাভ হচ্ছে না? গত কয়েক বছরে তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতিতে টানতে বামফ্রন্ট নানা উদ্যোগ নিলেও, বাস্তবের ছবিটা যে বেশ অন্যরকম, তা এবার স্পষ্ট হয়ে গেল দলেরই এক গোপন নথিতে। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা সিপিআইএমের একটি অভ্যন্তরীণ চিঠিতে দলের অন্দরেই চরম উদ্বেগের ছবি ধরা পড়েছে, যা নিয়ে এখন রাজ্য রাজনীতির অন্দরে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।

দলের ওই অভ্যন্তরীণ চিঠির ৩ নম্বর পাতায় সরাসরি স্বীকার করা হয়েছে যে, ৩০ বছরের কম বয়সি তরুণ প্রজন্মের সদস্য সংখ্যা দলে নেমে এসেছে মাত্র ৪.৫৫ শতাংশে। যা এই মুহূর্তে দলের কাছে অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এই গুরুতর দুর্বলতা থেকে দ্রুত বেরিয়ে না এলে আগামী দিনে বড় ধাক্কা খাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ‘জেন জি’ বা ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া প্রজন্ম অত্যন্ত নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে চলেছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক অতীতে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে যেভাবে এই তরুণ প্রজন্ম প্রথম সারিতে উঠে আসছে, তাতে তাদের মতামতকে অবহেলা করার কোনো উপায় নেই।

কেন যুবসমাজ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, পাড়ায় পাড়ায় বা অলিতে গলিতে তরুণদের প্রভাবিত করার মতো দর্দি বা সমবয়সি মুখ না থাকাই এর মূল কারণ। বর্তমান প্রজন্ম বিগত ১৫ বছর ধরে রাজ্যের অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর শাসন দেখে বড় হয়েছে এবং এই জেন-জি প্রজন্ম কোনোদিনই বাম জমানার বাংলা স্বচক্ষে দেখেনি। ফলে তাদের কাছে বামপন্থা মানেই কেবল অতীতের কিছু শোনা কথা বা ইতিহাস। অন্যদিকে, বর্তমানের তরুণদের মানসিকতা, পছন্দ বা মনস্তত্ত্ব বুঝতেও বাম নেতৃত্ব অনেকাংশে ব্যর্থ হচ্ছেন বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

যদিও এই বিষয়ে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী জানিয়েছেন যে, এই প্রজন্ম তৃণমূলের শাসন দেখে ববিরক্ত এবং অন্য দলের কার্যকলাপেও অসন্তুষ্ট, তাই তাদের কাছে সঠিক বার্তা নিয়ে পৌঁছানোই এখন দলের মূল লক্ষ্য। অন্যদিকে এসএফআই রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক কাঠামোর কারণে তরুণদের প্রধান ফোকাস এখন নিজেদের কেরিয়ার ও রোজগারের দিকে, যা তাদের ক্ষোভ ও প্রতিবাদের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবমিলিয়ে, ২০২৯-এর বড় লড়াইয়ের আগে তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের দিকে টানতে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট এখন ঠিক কী কৌশল নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।