মিষ্টি আমের স্বাদে তেতো যুদ্ধের ছোঁয়া! ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে ভারতের আম রপ্তানি কি তলানিতে?

ফলের রাজা আমের ভরা মরসুমে এবার সিঁদুরে মেঘ দেখছেন দেশের আম রপ্তানিকারক ও বাগান মালিকরা। সৌজন্যে, পশ্চিম এশিয়ায় চলা ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ। এই যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতের কৃষি পণ্য রপ্তানি খাতে, যার মধ্যে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসতে চলেছে আম রপ্তানিতে। বিশেষ করে আরব দুনিয়া এবং ইউরোপে আম পাঠানোর ক্ষেত্রে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।

রপ্তানিতে বাধার পাহাড়: প্রতি বছর মার্চ-এপ্রিল থেকে ভারতের আলফানসো, কেশর এবং ল্যাংড়া আমের ব্যাপক চাহিদা থাকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব, কুয়েত এবং ইরানে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধের ফলে পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে:

  • জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কারণে লোহিত সাগর এবং পারস্য উপসাগরীয় রুটে জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির। ফলে পণ্যবাহী জাহাজগুলো বন্দরেই দাঁড়িয়ে থাকছে।

  • বিমানে পরিবহণ খরচ আকাশছোঁয়া: বিমানপথও যুদ্ধের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় বিমানে আম পাঠানোর খরচ এক ধাক্কায় ৩০-৪০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। পচনশীল ফল হওয়ার কারণে আম বেশিক্ষণ আটকে রাখা সম্ভব নয়।

  • বিমা ও মাশুল বৃদ্ধি: যুদ্ধের ঝুঁকির কারণে জাহাজ বা বিমানের বিমার প্রিমিয়াম এবং ‘ওয়ার রিস্ক সারচার্জ’ বহুগুণ বেড়েছে, যা রপ্তানিকারকদের লাভের গুড় কমিয়ে দিচ্ছে।

চাষিদের মাথায় হাত: মহারাষ্ট্রের রত্নগিরি থেকে কর্ণাটক— সর্বত্র আম চাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। রপ্তানি বন্ধ হওয়ার ফলে স্থানীয় বাজারে আমের সরবরাহ অনেক বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে জোগান বাড়লে আমের দাম অনেকটা পড়ে যেতে পারে, যার ফলে উৎপাদন খরচটুকুও তুলতে পারবেন না বলে আশঙ্কা করছেন অনেক চাষি। অনেক বাগান মালিক ইতিপূর্বেই বিদেশে আম পাঠানোর বরাত (Order) হারিয়েছেন।

বিকল্পের সন্ধান: পরিস্থিতি সামাল দিতে রপ্তানিকারকরা এখন ব্রিটেন ও কানাডার মতো বিকল্প বাজারের খোঁজ করছেন। তবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় এবং পশ্চিম এশিয়ার আকাশসীমা ব্যবহারে কড়াকড়ি থাকায় সেই পথও খুব একটা সহজ হচ্ছে না।

রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং যুদ্ধের এই জোড়া ফলায় বাঙালির প্রিয় আম এ বছর বিদেশি পাতে কতটা পৌঁছবে, নাকি পচে নষ্ট হবে— সেই আশঙ্কায় প্রহর গুনছে গোটা আম বাণিজ্য মহল। ডেইলিয়ান্ট-এর পাঠকদের জন্য নজর থাকবে আম বাজারের এই ওঠানামার ওপর।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy