মালদহ জেলায় মিম (AIMIM)-এর লাগাতার শক্তি বৃদ্ধি এবং তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে বড় ভাঙন ধরায় চরম আতঙ্কে রয়েছে শাসক দল। তৃণমূল ছেড়ে সংখ্যালঘুদের মিমে যোগদানের হিড়িক পড়েছে। এই পরিস্থিতিকে ‘গঙ্গা ভাঙনের থেকেও বড় ধাক্কা’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইমাম-মোয়াজ্জেমদের নিয়ে সভা করলেন স্বয়ং তৃণমূলের জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সী।
মালদহ জেলার ১২টি বিধানসভা কেন্দ্রেই প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা করেছে মিম। ইতিমধ্যে তারা ২০টিরও বেশি নিজস্ব কার্যালয় খুলে ফেলেছে এবং তৃণমূলের তৃণমূল স্তরে ঢুকে বড় ভাঙন ধরাচ্ছে। মালদহের মালতীপুর, রতুয়া, চাঁচল, হরিশ্চন্দ্রপুর, সুজাপুর, মোথাবাড়ি এবং মানিকচকের মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে মিমের প্রতি আগ্রহ তীব্রভাবে বাড়ছে।
তৃণমূল নেতাদের কেন্দ্রেও তীব্র ধস
ভাঙনের ধাক্কা সামলাতে তৃণমূল জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সী নিজের বিধানসভা কেন্দ্র মালতীপুরের জালালপুরে ইমাম-মোয়াজ্জেমদের নিয়ে সভা করেন। মঞ্চ থেকে তিনি সরাসরি মিম এবং হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে সরব হন। তিনি ইমাম-মোয়াজ্জেমদের সতর্ক করে বলেন, “আলখাল্লা পরে মুসলিমদের হয়ে যারা বলছে তারা আসলে মুসলিমদের ভালো চায় না। তাদের ফাঁদে যাতে আপনারা পা না দেন।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মোথাবাড়ি বিধানসভা (বিধায়ক মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন) এবং হরিশ্চন্দ্রপুর বিধানসভা (বিধায়ক মন্ত্রী তজমুল হোসেন) সহ রতুয়া এবং স্বয়ং জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সীর মালতীপুর কেন্দ্রেই তৃণমূলে ব্যাপক ধস নেমেছে। রতুয়া এবং মোথাবাড়ি এলাকায় শত শত তৃণমূল কর্মী মিম-এ যোগদান করেছেন।
ওয়াইসি-হুমায়ুন ফ্যাক্টর
এদিকে, মুর্শিদাবাদে সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর মিমের সঙ্গে জোট বাঁধার ইঙ্গিত দেওয়ায় সেখানেও ভোট কাটাকুটির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। হুমায়ুন কবীরও স্বীকার করেছেন যে, আসাউদ্দিন ওয়াইসির একটি আলাদাই ক্যারিশ্মা রয়েছে, যা বাংলায় ভালো প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক মাস ধরেই মালদহের সমীকরণ দ্রুত বদলাচ্ছে। সন্ধ্যা নামলেই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত গ্রামে গ্রামে যাচ্ছেন মিমের প্রতিনিধিরা। তৃণমূলকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে এই ‘মিম ভূত’, কারণ তারা বুঝতে পারছে যে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে গভীর ফাটল ধরছে।