‘মিথ্যেবাদী ট্রাম্প, মাথা নত করবে না তেহরান!’ খামেনেই হত্যার পর যুদ্ধের হুঙ্কার আলি লারিজানির

সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর হত্যাকাণ্ডের পর ইরান কি সত্যিই আমেরিকার সঙ্গে গোপন সমঝোতায় রাজি হয়েছে? রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা এই দাবিকে সোমবার সপাটে উড়িয়ে দিল তেহরান। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব তথা খামেনেইর দীর্ঘদিনের আস্থাভাজন আলি লারিজানি সাফ জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনার প্রশ্নই ওঠে না। বরং ট্রাম্পকে ‘মিথ্যেবাদী’ আখ্যা দিয়ে তিনি অভিযোগ করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিকে ‘ইজরায়েল ফার্স্ট’-এ বদলে নিয়ে মার্কিন সৈন্যদের বলি দিচ্ছেন।

৬৭ বছর বয়সী লারিজানি, যিনি ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামোর অন্যতম স্তম্ভ, এক্স-পোস্টে (X) মার্কিন রণকৌশলের তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, “ট্রাম্পের মিথ্যে আশা মধ্যপ্রাচ্যকে বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দিয়েছে। ইরানি বাহিনী কোনো আগ্রাসন শুরু করেনি, কিন্তু সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমরা বদ্ধপরিকর।” লারিজানির এই কঠোর অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তিনি শুধু একজন প্রাক্তন আইআরজিসি (IRGC) কমান্ডারই নন, বরং চীনের সঙ্গে ২৫ বছরের কৌশলগত চুক্তির রূপকার এবং পরমাণু আলোচনার অন্যতম প্রধান মুখ। গত বছর আগস্টে ফের নিরাপত্তা কাউন্সিলের সচিব পদে বসার পর থেকে বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে তাঁর গুরুত্ব কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে।

এদিকে, কূটনীতির লড়াইয়ের সমান্তরালে রণক্ষেত্রেও বাড়ছে উত্তাপ। সোমবার তেহরান সহ দোহা, দুবাই ও জেরুজালেমে ভয়াবহ বিস্ফোরণের খবর মিলেছে। কুয়েত টানা তিন দিন ধরে ইরানি ড্রোন ধ্বংসের দাবি করেছে, অন্যদিকে সাইপ্রাসে ব্রিটিশ বিমানঘাঁটিতেও ড্রোন হামলা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের তরফে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প ভবিষ্যতে ইরানি নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলতে পারেন ঠিকই, কিন্তু বর্তমানে মার্কিন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ কোনো বিরতি ছাড়াই চলবে। ফলে আলোচনার জল্পনা থাকলেও বাস্তবে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy