“মা আমাকে বাঁচাও!” ফোনের ওপারে কি সত্যিই আপনার সন্তান? AI জালিয়াতির নতুন ফাঁদ থেকে বাঁচুন

“মা, আমি খুব বিপদে পড়েছি, আমায় বাঁচাও!”—ফোনের ওপারে সন্তানের কান্নামাখা আর্তনাদ শুনে কোন বাবা-মায়ের বুক না কেঁপে ওঠে? ঠিক এই আবেগকেই এখন হাতিয়ার করছে সাইবার অপরাধীরা। প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে ডার্ক ওয়েব ও এআই (AI) টুল ব্যবহার করে দানা বাঁধছে ‘এআই ভয়েস ক্লোনিং স্ক্যাম’। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের অডিও ক্লিপ ব্যবহার করেই প্রতারকরা তৈরি করে ফেলছে আপনার প্রিয়জনের হুবহু কণ্ঠস্বর। মুহূর্তের অসতর্কতায় খোয়া যেতে পারে লক্ষ লক্ষ টাকা।

কীভাবে কাজ করে এই চক্র? সাইবার বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, প্রতারকরা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আপনার বা আপনার আত্মীয়ের কণ্ঠস্বর সংগ্রহ করে। এরপর এআই সফটওয়্যারের মাধ্যমে সেই স্বরকে ক্লোন করে ফোন করা হয়। ফোনের ওপারে প্রিয়জনের গলা শুনে এবং তাঁদের ‘বিপদে’ পড়ার গল্প শুনে মানুষ হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে দ্রুত টাকা পাঠিয়ে দেন। কখনও পুলিশ সেজে, কখনও আবার কিডন্যাপার সেজে এই ফোনগুলো করা হচ্ছে।

কীভাবে নিজেকে এবং পরিবারকে সুরক্ষিত রাখবেন?

  • সন্দেহজনক ফোন কল: হুট করে পরিচিত কেউ টাকার দাবি করলে বা কান্নাকাটি করলে ঘাবড়ে যাবেন না। ফোনের ওপারে থাকা ব্যক্তির কণ্ঠস্বর যতটাই চেনা মনে হোক, আগে শান্ত মনে পরিস্থিতি বিচার করুন।

  • ক্রস-চেক করুন: যে নম্বর থেকে ফোন এসেছে, সেটি আপনার প্রিয়জনের কি না তা যাচাই করুন। যদি অন্য নম্বর থেকে ফোন আসে, তবে সরাসরি আপনার আত্মীয়ের আসল নম্বরে ফোন করে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করুন।

  • গোপন পাসওয়ার্ড বা কোড: পরিবারের সদস্যদের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট ‘সিক্রেট কোড’ বা পাসওয়ার্ড ঠিক করে রাখুন। বিপদের সময় ফোনের ওপারে থাকা ব্যক্তি সেই কোড বলতে না পারলে বুঝবেন সেটি ফেক কল।

  • সোশ্যাল মিডিয়ায় সতর্কতা: ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে ভয়েস মেসেজ বা ভিডিও পোস্ট করার সময় প্রাইভেসি সেটিংস খেয়াল রাখুন। অপরিচিত কাউকেও নিজের কন্ঠস্বরের স্যাম্পল দেবেন না।

প্রযুক্তির এই অন্ধকার দিকটি মোকাবিলা করতে প্রয়োজন কেবল সচেতনতা। মনে রাখবেন, কোনো জরুরি অবস্থায় পুলিশ বা হাসপাতাল সরাসরি ফোনে অনলাইন ট্রান্সফার বা কিউআর কোডে টাকা চায় না। কোনো সন্দেহজনক ফোন এলে দ্রুত স্থানীয় সাইবার ক্রাইম থানায় খবর দিন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy