মুম্বাইয়ের মতো ব্যয়বহুল শহরে মাসিক ২.২ লক্ষ টাকা আয় করেও কি কেউ আর্থিক সংকটে ভুগতে পারেন? শুনতে অদ্ভুত মনে হলেও, এই দম্পতির বাস্তব জীবন এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সম্প্রতি ‘পার্সোনাল ফাইন্যান্স ইন্ডিয়া’ নামক একটি রেডিট কমিউনিটিতে নিজেদের মাসিক খরচের খতিয়ান তুলে ধরেছেন মুম্বাইয়ের এক দম্পতি। তাঁদের দাবি, মাস শেষ হতে না হতেই তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট শূন্য হয়ে যায়। ২.২ লক্ষ টাকা আয়ের পরেও কীভাবে এই দশা, তা নিয়ে নেটপাড়ায় শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
দম্পতিটি তাঁদের খরচের যে তালিকা দিয়েছেন, তা রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো। মুম্বাইয়ে ১ বিএইচকে ফ্ল্যাটের ভাড়া বাবদ তাদের খরচ হয় ৪৪,০০০ টাকা। ভবিষ্যতের কথা ভেবে তারা মিউচুয়াল ফান্ড এসআইপি (SIP)-তে বিনিয়োগ করছেন ৬০,০০০ টাকা। মুদিখানা ও খাবার খরচ ২০,০০০ টাকা, গৃহকর্মী ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ৮,০০০ টাকা, ইউটিলিটি বিল ৪,০০০ টাকা এবং যাতায়াত খরচ ১২,০০০ টাকা—অর্থাৎ প্রাথমিক প্রয়োজনেই তাদের বড় একটি অংশ চলে যাচ্ছে।
তবে বিতর্কের আসল কারণ লুকিয়ে আছে তাঁদের বিলাসবহুল জীবনযাত্রায়। তথাকথিত ‘লাইফস্টাইল’ মেইনটেইন করতে গিয়ে তারা কেনাকাটা, ব্র্যান্ডেড পারফিউম, পোশাক এবং হুটহাট ঘুরতে গিয়ে মাসে খরচ করে ফেলছেন প্রায় ৫৪,০০০ থেকে ৫৮,০০০ টাকা। এছাড়া শেষ মুহূর্তে দামী ফ্লাইটে যাতায়াত বাবদ খরচ হয় ৪৫,০০০ টাকা পর্যন্ত। নেটিজেনরা এই দম্পতির এই প্রবণতাকে ‘ইনফ্লেটেড লাইফস্টাইল’ বলে অভিহিত করেছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই পোস্ট ভাইরাল হতেই শুরু হয়েছে সমালোচনার ঝড়। অনেকেই দম্পতিকে পরামর্শ দিয়েছেন, আয় বাড়লে খরচ না বাড়িয়ে বরং সঞ্চয়ের মানসিকতা তৈরি করা জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দম্পতিটির ভুল নীতি হলো—প্রথমে খরচ করে অবশিষ্ট অর্থ সঞ্চয় করা, অথচ নিয়ম হওয়া উচিত আয় থেকে আগে সঞ্চয় বাদ দিয়ে অবশিষ্ট অর্থ খরচ করা। এছাড়া জরুরি তহবিল (Emergency Fund) না থাকায় তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। নেটপাড়ার পরামর্শ, অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা ও শেষ মুহূর্তে দামী টিকিট কাটার অভ্যাস ত্যাগ করলেই তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি সম্ভব। মুম্বাইয়ের এই দম্পতির জীবন এখন বহু মানুষের কাছে শিক্ষণীয় বা সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, আয়ের অংক যত বড়ই হোক না কেন, পরিকল্পনাহীন ব্যয় যেকোনো পরিবারকে সংকটে ফেলতে পারে।





