বাবার বারণ উড়িয়ে কেরিয়ারের তুঙ্গে অজয়কে বিয়ে! কোন বড় ঝুঁকিতে অবাক করেছিলেন কাজল?

বলিউডের সেরা সময়ে দাঁড়িয়ে, যখন নাম-যশ-খ্যাতির একেবারে শিখরে ছিলেন অভিনেত্রী কাজল, ঠিক সেই সময়েই অভিনেতা অজয় দেবগনের সঙ্গে ছাঁদনাতলায় বসার ঝুঁকি নিয়েছিলেন তিনি। তবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর কীভাবে তাঁকে একের পর এক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল, সাংবাদিক নয়নদীপ রক্ষিতকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রথমবার তা খোলাখুলি স্বীকার করলেন অভিনেত্রী। কাজল জানান, কেরিয়ারের সুবর্ণ সময়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি সেই যুগে বহু মানুষকে যেমন চমকে দিয়েছিলেন, তেমনই খোদ তাঁর পরিবারের মধ্যেই তৈরি হয়েছিল প্রবল মতপার্থক্য।
বাবার তীব্র আপত্তি ও মায়ের সমর্থন সাক্ষাৎকারে নিজের অতীতের পাতা উল্টে কাজল জানান, কেরিয়ারের শীর্ষে থাকা অবস্থায় বিয়ের সিদ্ধান্তকে অনেকেই ভালোভাবে নেননি। অনেকেই তাঁকে আটকাতে চেয়েছিলেন। অভিনেত্রী বলেন, “আমাকে বিয়ে করতে তখন অনেকে বারণ করেছিলেন, যাঁর মধ্যে ছিলেন আমার নিজের বাবা শোমু মুখোপাধ্যায়ও! বাবা স্পষ্ট বলেছিলেন যে ওই মুহূর্তে আমার বিয়ে করা একদমই উচিত নয়।” তবে মা, বর্ষীয়ান অভিনেত্রী তনুজা অবশ্য মেয়েকে আটকে রাখেননি। অজয়ের সম্পর্কের কথা শোনার পর তিনি কেবল জানতে চেয়েছিলেন, কাজল এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত কি না। এর পর মা-মেয়ের মধ্যে এক দীর্ঘ আলোচনা হয় এবং মায়ের সমর্থনেই পথ চলা শুরু করেন তিনি।
পুরোনো প্রথা ভাঙার জল্পনা ও প্রেমের শুরু অনেকে মনে করেন কাজল কেরিয়ারের মধ্যগগনে বিয়ে করে বলিপাড়ার পুরোনো প্রথা ভেঙেছেন। তবে এই ধারণার সঙ্গে একেবারেই সহমত নন তিনি। কাজলের যুক্তি, “আমি কোনও নিয়ম ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়েছি বলে মনে করি না। আমার আগেও শর্মিলা ঠাকুর, সাইরা বানুর মতো কিংবদন্তি অভিনেত্রীরা কেরিয়ারের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় বিয়ে করেছিলেন এবং সফলভাবে কেরিয়ার চালিয়ে গিয়েছেন।”
১৯৯৯ সালের ২৪শে ফেব্রুয়ারি মিডিয়াকে সম্পূর্ণ আড়ালে রেখে, পরিবারের ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে নিয়ে নিজেদের বাড়ির ছাদেই বিয়ে সেরেছিলেন কাজল ও অজয়। তবে এই প্রেমের শুরুটা কিন্তু মোটেই রূপকথার মতো ছিল না। প্রথম পরিচয়ে অজয়কে বিন্দুমাত্র পছন্দ হয়নি কাজলের। ১৯৯৫ সালে ‘হালচাল’ ছবির সেটে চঞ্চল কাজলের সঙ্গে আলাপ হয় চরম শান্ত ও চুপচাপ প্রকৃতির অজয়ের। অজয়ের গম্ভীর ভাব দেখে কাজল ভেবেছিলেন লোকটির বিশাল ‘অ্যাটিটিউড’ রয়েছে।
চমকপ্রদ বিষয় হলো, সে সময় দুজনেই আলাদা সম্পর্কে ছিলেন। তৎকালীন প্রেমিকের সঙ্গে ঝামেলা হলে সেটে অজয়ের কাছেই পরামর্শ নিতে যেতেন কাজল। অজয়ও কোনো বাড়তি জ্ঞান না দিয়ে চুপচাপ শুনে ঠান্ডা মাথায় বন্ধুকে পরামর্শ দিতেন। পরবর্তীতে দুজনেরই সম্পর্ক ভেঙে গেলে, স্বাভাবিক নিয়মেই একে অপরের ভরসা হয়ে ওঠেন তাঁরা। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, কাজল বা অজয়—কেউই কিন্তু কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে একে অপরকে ‘আই লাভ ইউ’ বলেননি বা হাঁটু গেড়ে বসে প্রপোজ করেননি! চার বছর ধরে ডেট করার পর, কোনো বড় আয়োজন ছাড়াই ঘরোয়া পরিবেশে শুভপরিণয় সারেন এই তারকা জুটি। আজ আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে একে অপরের হাত শক্ত করে ধরে রেখে ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম সফল দম্পতি হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছেন তাঁরা।