২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে মালদহের মাটি এখন তপ্ত। জেলাজুড়ে চলছে শেষ মুহূর্তের হাই-ভোল্টেজ প্রচার। সোমবার মালদহ উত্তরের বিজেপি প্রার্থী গোপালচন্দ্র সাহার সমর্থনে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। প্রচারের ময়দান থেকেই তৃণমূল প্রার্থীকে ‘বহিরাগত’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি।
তৃণমূলকে ‘বহিরাগত’ তোপ সুকান্তর: এদিন মালদহের জনসভায় সুকান্ত মজুমদার দাবি করেন, মালদহের মানুষ আর ঘরের ছেলেকে ছেড়ে বাইরের প্রার্থীকে বেছে নেবে না। তৃণমূল প্রার্থীকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “যাঁদের নিজেদের এলাকায় কোনো ভিত্তি নেই, তাঁদের মালদহবাসী কেন ভোট দেবেন? মালদহের ভূমিপুত্র গোপালচন্দ্র সাহাই এখানে বড় ব্যবধানে জয়ী হবেন।” সুকান্তর এই ‘বহিরাগত’ তত্ত্বে জেলার রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক তরজা।
মোথাবাড়ি ইস্যু ও শাসকদলকে আক্রমণ: শুধুমাত্র প্রার্থীর যোগ্যতা নয়, স্থানীয় সমস্যা নিয়েও এদিন সুর চড়ান বিজেপি সভাপতি। বিশেষ করে মোথাবাড়ি এলাকার উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যাগুলো তুলে ধরে তিনি সরাসরি শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে কাঠগড়ায় তোলেন। তাঁর অভিযোগ, “বছরের পর বছর ধরে মোথাবাড়ির মানুষকে বঞ্চিত রেখেছে এই সরকার। এবার ইভিএম-এ মানুষ তার যোগ্য জবাব দেবে।”
গোপাল সাহার শক্তি প্রদর্শনী: এদিনের সভায় বিজেপি প্রার্থী গোপালচন্দ্র সাহার সমর্থনে জনপ্লাবন লক্ষ্য করা যায়। সুকান্ত মজুমদারকে পাশে পেয়ে কর্মীদের মনোবল যেমন তুঙ্গে, তেমনই রোড শো এবং জনসভার ভিড় দেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন মালদহে শাসকদলের জন্য লড়াইটা বেশ কঠিন হতে চলেছে।
নির্বাচনের আগে মালদহের এই দাপুটে প্রচার কি শেষ পর্যন্ত ব্যালট বক্সে প্রভাব ফেলবে? সুকান্তর ভবিষ্যদ্বাণী কি মিলবে? এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।





