বাংলার রাজনৈতিক ময়দান এখন আক্ষরিক অর্থেই তপ্ত। একদিকে যখন আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের রণকুরি সাজাতে ব্যস্ত সব রাজনৈতিক দল, ঠিক তখনই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন চাঞ্চল্য তৈরি করলেন বিহারের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিজেপির হেভিওয়েট নেতা নিতিন নবীন। বসন্তের আগেই বাংলায় এবার ‘অকাল হোলি’ খেলার ডাক দিলেন তিনি। আর এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করেই সরগরম রাজ্য রাজনীতি।
বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে নবীন বলেন, রঙের উৎসবের আগেই বাংলা গেরুয়া রঙে রাঙানো হবে। আসলে এই ‘হোলি’ প্রতীকী। তিনি মূলত আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচন বা রাজনৈতিক কোনো সাফল্যের ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। বিজেপি সূত্রের খবর, উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—সর্বত্রই দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা করতে কোমর বেঁধে নামছে গেরুয়া শিবির।
বিজেপি নেতা নবীন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তৃণমূলের দুর্ভেদ্য দুর্গে হানা দিতে বিজেপি এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা এখনই কোমর বেঁধে মাঠে নেমে পড়েন। সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে তৃণমূলের দুর্নীতির কথা তুলে ধরার পাশাপাশি বিজেপির উন্নয়নের বার্তাকে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘অকাল হোলি’র কথা বলে তিনি আসলে বাংলায় বড়সড় কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তনের আভাস দিতে চাইছেন।
তবে বিরোধী শিবিরের এই তৎপরতাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস। ঘাসফুল শিবিরের পালটা দাবি, হোলি খেলার স্বপ্ন দেখা ভালো, কিন্তু বাংলার মানুষ জানে কার গলায় জয়ের মালা পরাতে হবে। সব মিলিয়ে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই বসন্তের বাতাসে এখন রাজনীতির রং লেগেছে। সাধারণ মানুষের নজর এখন একটাই প্রশ্নের দিকে—নিতিন নবীনের ঘোষণা অনুযায়ী সত্যি কি বাংলায় অকাল হোলি দেখা যাবে? নাকি এটি স্রেফ ভোটের আগে চনমনে হওয়ার ভোকাল টনিক?