মার্কিন শুল্ক বিতর্ক, সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ ট্রাম্প প্রশাসন, দ্রুত রায়ের আবেদন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা নিয়ে আইনি লড়াই এখন সুপ্রিম কোর্টে। বুধবার, ট্রাম্প প্রশাসন আপিল আদালতের একটি রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপের জন্য শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ফেডারেল আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের আমদানি শুল্ক আরোপের ক্ষমতা রয়েছে এবং আপিল আদালতের রায় সেই ক্ষমতার অবৈধ ব্যবহার বলে বিবেচিত হয়েছে।

আপিল আদালত তার রায়ে বলেছিল, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আরোপিত বেশিরভাগ শুল্কই ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের (IEEPA) অবৈধ ব্যবহার। তবে এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সরকার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে। সলিসিটর জেনারেল ডি. জন সাউয়ার বিচারপতিদের কাছে আর্জি জানিয়েছেন, নভেম্বরের শুরুতেই এই মামলার শুনানি গ্রহণ করা হোক। তিনি বলেন, গত পাঁচ মাস ধরে শুল্ক আরোপের এই সিদ্ধান্ত বিদেশি সম্পর্কের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।

অন্যদিকে, লিবার্টি জাস্টিস সেন্টারের সিনিয়র আইনজীবী জেফ্রি সোয়াব এই শুল্কের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ছোট ব্যবসাগুলোর দুর্দশার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “এই অবৈধ শুল্ক ছোট ব্যবসাগুলোকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, তাদের অস্তিত্ব বিপন্ন। আমরা আমাদের মক্কেলদের জন্য এই মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি আশা করি।”

ট্রাম্প প্রশাসন এই শুল্ককে শুধু রাজস্ব বাড়ানোর জন্য নয়, বরং ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান এবং অন্যান্য দেশগুলিকে নতুন বাণিজ্য চুক্তি মেনে নিতে চাপ দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার করেছে। এই শুল্ক থেকে অর্জিত রাজস্ব এখন ১৫৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, শুল্ক আরোপের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকলেও, গত কয়েক দশক ধরে আইন প্রণেতারা প্রেসিডেন্টের কাছে এই ক্ষমতা হস্তান্তর করেছেন। ট্রাম্প এই ক্ষমতাকে সর্বোচ্চ মাত্রায় ব্যবহার করেছেন। তবে আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু শুল্ক, যেমন বিদেশি ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম এবং গাড়ির উপর আরোপিত শুল্ক, আপিল আদালতের রায়ের আওতায় পড়েনি।

ট্রাম্পের দাবি, তিনি শুল্ক আরোপ না করলে ভারত কর কমানোর প্রস্তাব দিত না, যা এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।