মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার তথ্য ইরানকে দিয়েছে রাশিয়া! জেলেনস্কির বিস্ফোরক অভিযোগের পর কী বললেন ট্রাম্প?

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি সম্প্রতি এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে দাবি করেছেন যে, রাশিয়া স্যাটেলাইট গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে টার্গেট করতে সহায়তা করেছে। এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষাপটে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, তিনি এই বিষয়টি নিয়ে সরাসরি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলবেন। ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘‘আমি পুতিনকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করব। আমরা সবটা জানতে পারব।’’ তবে জেলেনস্কির এই অভিযোগের কথা আংশিক স্বীকার করলেও, মার্কিন প্রেসিডেন্ট এর প্রভাবকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ। ট্রাম্পের দাবি, রাশিয়ার পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো সহায়তা করা হয়ে থাকলেও ‘‘তার তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি, কারণ আমরা ইরানকে সম্পূর্ণভাবে দমন করতে সক্ষম হয়েছি।’’

মূলত, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কির করা একটি দাবির পরই এই আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। জেলেনস্কি দাবি করেছেন যে ইউক্রেনের গোয়েন্দাদের হাতে এমন পাকা প্রমাণ রয়েছে, যা স্পষ্ট করে দেখায় যে রাশিয়া উপসাগরীয় দেশগুলো এবং ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলির উপর দীর্ঘক্ষণ ধরে স্যাটেলাইট নজরদারি চালিয়েছে। তাঁর আরও অভিযোগ, পরবর্তীতে রাশিয়ার তোলা সেই সমস্ত উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন স্যাটেলাইট ছবি ইরানের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এক্স (পূর্বের টুইটার)-এ করা একটি ধারাবাহিক পোস্টে জেলেনস্কি দাবি করেছেন যে, জুলাই মাসের শুরু থেকেই ইউক্রেন উপসাগরীয় দেশ এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলির ওপর রাশিয়ার এই সক্রিয় স্যাটেলাইট নজরদারির নথিপত্র সংগ্রহ করেছে। জেলেনস্কি লিখেছেন, ‘‘এই স্যাটেলাইট চিত্রগুলি পরবর্তীতে সরাসরি ইরানের হাতে পৌঁছায়। একই সঙ্গে, রাশিয়ার সংগৃহীত এই স্থানগুলির ছবির সঙ্গে ইরানের চালানো হামলার মধ্যে এক স্পষ্ট সম্পর্ক দেখা যাচ্ছে—যেমন হামলার ঠিক আগের প্রস্তুতির সময়, হামলার সঠিক সময় এবং হামলার পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও এর যোগসূত্র স্পষ্ট।’’

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আরও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করে জানিয়েছেন যে, গত ১৯ ও ২০ জুলাই রাশিয়ার স্যাটেলাইট মধ্যপ্রাচ্যের মোট চারটি প্রধান সামরিক বিমানঘাঁটির ওপর অত্যন্ত নিখুঁত নজরদারি চালিয়েছিল—যার মধ্যে দুটি ঘাঁটি বাহরিনে, একটি জর্ডানে এবং অন্যটি কুয়েতে অবস্থিত। তাঁর জোরালো দাবি, পরবর্তীতে এই সংবেদনশীল ঘাঁটিগুলিই ইরানের সামরিক অভিযানের মূল পরিকল্পনায় টার্গেট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। জেলেনস্কি বিশ্বনেতাদের সতর্ক করে আরও বলেন, “এর উদ্দেশ্য একেবারেই জলের মতো পরিষ্কার। বিশ্বের কারোরই এই সহজ সত্যটিকে উপেক্ষা করা উচিত নয় যে, অশুভ শক্তি সবসময় পরিস্থিতিকে আরও জটিল এবং বিস্তৃত করার পথ খোঁজে। তাই অবিলম্বে রাশিয়াকে থামাতেই হবে, এই যুদ্ধ বন্ধ করতেই হবে এবং আগ্রাসীর ওপর রাজনৈতিক ও সামরিক চাপ অবশ্যই কার্যকর হতে হবে।”

তবে রাশিয়া ও ইরানের এই কৌশলগত আঁতাতের অভিযোগ সামনে আসার পরেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ওয়াশিংটনের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার এখনও তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমেই সমাধান খোঁজা। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন সামরিক অভিযান কিছু সময়ের জন্য স্থগিত থাকার প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প বলেছেন যে, আমেরিকার ধারাবাহিক ও কঠোর সামরিক হামলার ফলেই বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান নতুন করে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করেছে।