উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুর জেলার খুতার শহরে ঘটে গেল এক চরম লজ্জাজনক ঘটনা, যা পারিবারিক সম্পর্কের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছে। এক নাবালিকা ভাইঝিকে (১৬) অপহরণের অভিযোগ উঠল তার নিজের কাকার বিরুদ্ধে। আপন ভাইয়ের এমন জঘন্য বিশ্বাসঘাতকতা সহ্য করতে না পেরে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন মেয়েটির বাবা। বর্তমানে তিনি জেলা হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
মধ্যরাতের সেই ভয়ঙ্কর মুহূর্ত:
ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার রাতে। রাত দেড়টা নাগাদ কিশোরীর মায়ের হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে তিনি দেখেন, তাঁর মেয়ে বিছানায় বসে নিচু স্বরে কারও সঙ্গে কথা বলছে। সন্দেহ হওয়ায় তিনি স্বামীকে জাগিয়ে তোলেন। সারা ঘর তল্লাশি চালাতেই চক্ষু চড়কগাছ দম্পতির! দেখা যায়, খাটের নিচে লুকিয়ে রয়েছে তাঁদেরই ছোট ভাই। ধরা পড়ার ভয়ে দাদা-বউদিকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত ব্যক্তি।
ভোর হতেই রহস্যজনক উধাও:
রাতভর টানাপোড়েনের পর ভোর ৪টে নাগাদ বাবা-মায়ের নজর এড়িয়ে কিশোরীটিও রহস্যজনকভাবে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। সকালে দেখা যায় অভিযুক্ত কাকাও তার বাড়ি থেকে বেপাত্তা। পরিবারের বুঝতে বাকি থাকে না যে, কাকা ও ভাইঝি একসঙ্গে পালিয়েছে। এই সামাজিক কলঙ্ক এবং আপনজনের হাতে পিঠে ছুরি খাওয়ার যন্ত্রণায় বাবা বিষপান করেন। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও পরে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পুলিশি তৎপরতা ও উদ্ধার:
পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে খুতার পুলিশ অপহরণের মামলা রুজু করে তদন্তে নামে। নজরদারি দলের সহায়তায় গভীর রাতে নাবালিকাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। বর্তমানে মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষা ও জবানবন্দি রেকর্ড করার প্রক্রিয়া চলছে। তবে অভিযুক্ত কাকা এখনও পলাতক। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।





