নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘ কারাবাসের পর ফের সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে অর্পিতা মুখোপাধ্যায়। তবে এবার কোনো ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হওয়া টাকা নয়, বরং প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে করা তাঁর একটি মন্তব্য ঘি ঢালল বিতর্কের আগুনে।
কী বললেন অর্পিতা মুখোপাধ্যায়? আদালতে হাজিরা দেওয়ার পথে বা জেল থেকে বেরোনোর সময় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নির্বাচনে লড়া বা প্রার্থী না হওয়া প্রসঙ্গে অর্পিতাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি অত্যন্ত কৌশলী অথচ তাৎপর্যপূর্ণ উত্তর দেন। অর্পিতা বলেন, “প্রত্যেক মানুষেরই তো মানুষের দরবারে দাঁড়ানোর অধিকার আছে। সেই সুযোগটা দেওয়া উচিত।” তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, জনতাই শেষ কথা বলবে। পার্থ চট্টোপাধ্যায় কি আর কোনোদিন মানুষের সমর্থন পাবেন? এই প্রশ্নের জবাবে অর্পিতা জানান, গণতান্ত্রিক দেশে কাউকেই মানুষের কাছে যাওয়া থেকে আটকে রাখা ঠিক নয়।
নেপথ্যে কী কারণ? রাজনৈতিক মহলের ধারণা, পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের দূরত্ব বজায় রাখার যে কৌশল, তার বিরুদ্ধেই হয়তো পরোক্ষভাবে সুর চড়ালেন অর্পিতা। একসময়ের প্রভাবশালী মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এখন দলহীন এবং জেলবন্দি। তাঁর লড়ার অধিকার নিয়ে অর্পিতার এই সওয়াল নতুন কোনো সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে কাটাছেঁড়া।
পার্থ বনাম অর্পিতা: বর্তমান পরিস্থিতি নিয়োগ দুর্নীতির পাহাড়প্রমাণ টাকা উদ্ধারের পর থেকেই পার্থ ও অর্পিতার সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে নানা গুঞ্জন শোনা গিয়েছে। কখনও একে অপরের ওপর দায় চাপিয়েছেন, আবার কখনও মৌন থেকেছেন। তবে মঙ্গলবারের এই মন্তব্য বুঝিয়ে দিচ্ছে, পার্থর রাজনৈতিক কেরিয়ার শেষ হয়ে গিয়েছে—এটা মানতে নারাজ অর্পিতা।
বিরোধীদের কটাক্ষ: অর্পিতার এই মন্তব্যের পর বিরোধীরা পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে। বিজেপি ও সিপিআইএম-এর দাবি, “মানুষের দরবার নয়, তাঁদের এখন আদালতের দরবারে হিসাব দেওয়া উচিত।”
জেল থেকে করা অর্পিতার এই মন্তব্য কি পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জন্য কোনো নতুন দরজা খুলবে, নাকি বিতর্ক আরও উসকে দেবে? উত্তর দেবে সময়।





