মানসিক বয়স ৬, কিন্তু লড়াই ছিল অদম্য! তরুণীর বয়ানেই ১০ বছরের জেল ধর্ষকের

বিশেষভাবে সক্ষম হওয়ার অর্থ এই নয় যে তাঁর সাক্ষ্য দুর্বল বা অগ্রহণযোগ্য। সুপ্রিম কোর্টের এই ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণকে হাতিয়ার করেই ৭ বছর আগের এক নৃশংস ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্তকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিল মহারাষ্ট্রের ফৌজদারি আদালত। নির্যাতিতা তরুণীর মানসিক বয়স মাত্র ৬ বছর হওয়া সত্ত্বেও তাঁর বয়ানের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছেন বিচারক সুরেখা এ সিনহা।

বিভীষিকাময় সেই রাত ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৯ সালের ২৯ এপ্রিল, মহারাষ্ট্রে লোকসভা নির্বাচনের ডামাডোলের মধ্যে। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ২৫ বছর বয়সী বিশেষভাবে সক্ষম ওই তরুণীকে বাড়ির পাশের নির্জন রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যায় ৩৫ বছর বয়সী এক সেলুন কর্মী। তরুণীর বয়ান অনুযায়ী, অভিযুক্ত তাকে ছুরি দেখিয়ে খুনের হুমকি দেয় এবং মুখে বালিশ চাপা দিয়ে ধর্ষণ করে। এমনকি প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে নির্যাতিতাকে জোর করে সাবান দিয়ে স্নান করিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বাড়ি ফিরে কান্নায় ভেঙে পড়া তরুণী পরিবারের কাছে আকার-ইঙ্গিতে সমস্ত নারকীয় ঘটনার বর্ণনা দেন।

আদালতের ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ মামলা চলাকালীন আইন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিলেন, নির্যাতিতার বুদ্ধিমত্তার মাত্রা (IQ) মাত্র ৩৬, যা একজন ৬ বছর বয়সী শিশুর সমান। সাধারণত এমন ক্ষেত্রে সাক্ষ্যপ্রমাণ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। কিন্তু বিচারক সুরেখা এ সিনহা সুপ্রিম কোর্টের সেই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশকে তুলে ধরেন যেখানে বলা হয়েছে— কোনো ব্যক্তি বিশেষভাবে সক্ষম বলেই তাঁর বয়ানকে গুরুত্বহীন ভাবা যাবে না।

সাজা ও ন্যায়বিচার মোট ১৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ এবং ফরেনসিক রিপোর্টের ভিত্তিতে মঙ্গলবার আদালত অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে। ভারতীয় দণ্ডবিধির ধর্ষণ এবং বিশেষভাবে সক্ষমদের প্রতি অপরাধ সংক্রান্ত একাধিক ধারায় তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এই রায় বিশেষভাবে সক্ষমদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy