‘মানসিকভাবে ব্যথিত’, ভোটের মুখে তৃণমূল ছাড়লেন বাদুড়িয়ার বিধায়ক কাজী আব্দুর রহিম!

ভোটের বাদ্যি বাজতেই ঘর ভাঙল শাসক শিবিরের। লোকসভা নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার তৃণমূল বিধায়ক কাজী আব্দুর রহিম (দিলু) দল ছাড়ার ঘোষণা করলেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংঘাত এবং দলের অন্দরে কোণঠাসা হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি জানিয়েছেন যে, তিনি বর্তমানে ‘মানসিকভাবে ব্যথিত’। তাঁর এই আকস্মিক পদত্যাগ বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

কাজী আব্দুর রহিম দীর্ঘকাল ধরেই ওই এলাকার প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত। তবে বেশ কিছুদিন ধরেই দলের জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলে খবর। এদিন ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বিধায়ক জানান, দলের বর্তমান কর্মপদ্ধতি এবং কিছু নেতার আচরণে তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। তিনি বলেন, “যে সম্মানের সঙ্গে রাজনীতি করতে চেয়েছিলাম, তা আর সম্ভব হচ্ছে না। আমি মানসিকভাবে অত্যন্ত যন্ত্রণার মধ্যে রয়েছি, তাই দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।”

তৃণমূলের অন্দরে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, আসন্ন নির্বাচনে টিকিট পাওয়া বা না পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ ছিল বিধায়কের। যদিও কাজী আব্দুর রহিম নিজে জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত সম্মান এবং আদর্শগত কারণেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই বাদুড়িয়া বিধানসভা এলাকায় তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, নির্বাচনের মুখে একজন বিধায়কের ইস্তফা দলের সাংগঠনিক শক্তিতে বড়সড় ধাক্কা দিতে পারে।

বিরোধী দলগুলো ইতিমধ্যেই এই ইস্যু নিয়ে শাসক দলকে আক্রমণ শুরু করেছে। তাদের দাবি, তৃণমূলে সৎ এবং পুরনো কর্মীদের কোনো জায়গা নেই। অন্যদিকে, তৃণমূল জেলা নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দল বড় পরিবার, সেখানে কিছু মান-অভিমান থাকতেই পারে। তবে কাজী আব্দুর রহিমের মতো অভিজ্ঞ নেতার পদত্যাগ যে তৃণমূলের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। এখন দেখার বিষয়, তিনি অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেন নাকি নির্দল হিসেবে নিজের লড়াই চালিয়ে যান।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy