অনুপ্রবেশকারী হিসেবে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া অন্তঃসত্ত্বা সোনালী খাতুন এবং তাঁর ৮ বছরের ছেলেকে ভারতে ফিরিয়ে আনার জন্য বুধবার কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা শীর্ষ আদালতকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে, মানবিকতার কথা বিবেচনা করেই সোনালী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের দ্রুত ফিরিয়ে আনা হবে।
শীর্ষ আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে, ভারতে আসার পর অন্তঃসত্ত্বা সোনালী এবং তাঁর ছেলের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে কেন্দ্রকে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি তাঁর পর্যবেক্ষণে জানান, যদি সোনালীর বাবা ভদু শেখের ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন না থাকে, তবে নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী সোনালী এবং তাঁর সন্তানরাও ভারতীয় নাগরিক হিসেবেই গণ্য হবেন। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তও মন্তব্য করেন, “মানবিকতার খাতিরে কখনও কখনও রাষ্ট্রকে মাথা নত করতেই হয়।”
চলতি বছরের শুরুতে বীরভূমের বাসিন্দা সোনালী খাতুন, তাঁর স্বামী দানিশ শেখ এবং ৮ বছরের নাতিকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপরই তাঁদের ফিরিয়ে আনতে আইনি লড়াই শুরু করেন সোনালীর বাবা ভদু শেখ।
আরও ৬ জনকে ফেরানো নিয়ে বিতর্ক
এদিনের শুনানিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষে আইনজীবী কপিল সিব্বল সোনালী খাতুন-সহ সুইটি বিবি এবং তাঁদের মতো আরও ছয় জন ব্যক্তিকে ফিরিয়ে আনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দেওয়ার আর্জি জানান। তবে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এই আর্জির তীব্র বিরোধিতা করে দাবি করেন, ওই ছয়জনই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এর সপক্ষে জোরাল তথ্যপ্রমাণ রয়েছে।
এর আগে, গত ২৬ সেপ্টেম্বর কলকাতা হাইকোর্ট সোনালী ও সুইটির পরিবার-সহ মোট সাতজনকে এক মাসের মধ্যে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছিল এবং তাঁদের বাংলাদেশে পাঠানোর পদ্ধতিকে ‘অবৈধ’ বলে রায় দেয়। হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কেন্দ্র সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। আদালত অবমাননার কোপ থেকে বাঁচতে ১ ডিসেম্বর কেন্দ্র সোনালী এবং তাঁর ছেলেকে ফেরানোর বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ মেনে নেয়। তবে তুষার মেহতা স্পষ্ট জানান, বাকি ছয়জনের ভারতীয় নাগরিকত্বের দাবিকে চ্যালেঞ্জ করতে চায় কেন্দ্র। সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৬ ডিসেম্বর ধার্য করা হয়েছে।