‘মানবতার সব নীতি লঙ্ঘিত!’ খামেনেই হত্যায় ফুঁসে উঠলেন পুতিন, তেহরানের পাশে দাঁড়িয়ে আমেরিকাকে চরম হুঁশিয়ারি!

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এবার ঘৃতাহুতি দিল রাশিয়ার কড়া প্রতিক্রিয়া। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর প্রয়াণে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। খামেনেইর মৃত্যুকে নিছক সামরিক অভিযান নয়, বরং ‘পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তাঁর মতে, এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক আইনের সমস্ত ধুলিসাৎ তো হয়েইছে, সেইসঙ্গে মানবতার ন্যূনতম নীতিও লঙ্ঘিত হয়েছে। তেহরানে ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ বিমান হানার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মস্কো সাফ জানিয়েছে, এই ঘটনা বিশ্বশান্তির পথে এক অপূরণীয় ক্ষতি।

পুতিন তাঁর শোকবার্তায় খামেনেইকে একজন ‘অসাধারণ রাষ্ট্রনায়ক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “খামেনেই কেবল ইরানের নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন রাশিয়ার এক বিশ্বস্ত বন্ধু। দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তাঁর এই নির্মম হত্যা আন্তর্জাতিক অপরাধের সামিল।” রুশ প্রেসিডেন্টের এই কড়া বার্তা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ইরান-রাশিয়া অক্ষ এবার আরও শক্তিশালী হবে। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আমেরিকার এই হঠকারী পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

খামেনেইর মৃত্যুর পর ইরান যখন ৪০ দিনের শোক পালন করছে, তখন রাশিয়ার এই অবস্থান তেহরানের মনোবল বাড়িয়ে দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, পুতিনের এই বয়ান কেবল সহমর্মিতা নয়, বরং ওয়াশিংটন এবং তেল আভিভের প্রতি এক প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি। মস্কো মনে করছে, আলোচনার পথ বন্ধ করে এইভাবে একজন রাষ্ট্রপ্রধানকে টার্গেট করা ‘জঙ্গল রাজ’ কায়েম করার সমতুল্য। পুতিন আরও বলেন, “যেভাবে তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও রেহাই দেওয়া হয়নি, তা অত্যন্ত নক্কারজনক। মানবতার সব নীতি এখানে বিসর্জন দেওয়া হয়েছে।”

ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রপুঞ্জে এই বিষয়টি নিয়ে সরব হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে রাশিয়া ও চিন। পুতিনের এই বার্তার পর জল্পনা শুরু হয়েছে, তবে কি ইরানকে সামরিক সাহায্য দিয়ে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে ময়দানে নামবে রাশিয়া? যদিও মস্কো সরাসরি যুদ্ধের কথা বলেনি, তবে খামেনেইর মৃত্যুতে পুতিনের এই ব্যক্তিগত শোক এবং নিন্দা বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, আগামী দিনে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইজরায়েল-আমেরিকা অক্ষকে চরম বিরোধিতার মুখে পড়তে হবে। খামেনেই পরবর্তী ইরানে রুশ প্রভাব কতটা বাড়বে এবং পুতিনের এই ‘ক্ষোভ’ বাস্তবে কী রূপ নেবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy