মাধ্যমিক ২০২৬, প্রশ্নপত্রে ‘বিতর্ক’ এড়াতে স্কুলগুলিকে কড়া বার্তা পর্ষদের, দায়ী থাকবেন প্রধান শিক্ষক

২০২৬ সালের মাধ্যমিক (দশম শ্রেণির) পরীক্ষাকে ঘিরে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করল পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE)। পরীক্ষার নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পর্ষদ সমস্ত বিদ্যালয়কে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, প্রশ্নপত্রে কোনোভাবেই বিতর্কিত, রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল কিংবা সামাজিকভাবে অনুচিত কোনও প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না।

পর্ষদের এই কড়া পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো— রাজ্যের সমস্ত শিক্ষার্থীর জন্য একযোগে একটি ন্যায়সঙ্গত এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা।

নির্দেশিকার মূল বার্তা ও কড়া হুঁশিয়ারি
পর্ষদ সূত্রে খবর, প্রশ্নপত্র তৈরি করার সময় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের শুধুমাত্র নির্ধারিত পাঠ্যক্রম অনুসারে প্রশ্ন তৈরি করতে হবে এবং প্রশ্নের ভাষা ও প্রেক্ষাপটে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে।

পর্ষদের তরফ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, “২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র তৈরি করার সময় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের এই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে যে কোনও ভাবেই যেন রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক প্রসঙ্গ উঠে না আসে। কোনও প্রশ্ন যেন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি বা বিতর্কের সৃষ্টি না করে।”

এই নির্দেশিকার সবথেকে কঠোর অংশটি হলো— প্রশ্নপত্রে যদি কোনো ধরনের আপত্তিকর বা বিতর্কিত প্রশ্ন পাওয়া যায়, তাহলে তার জন্য সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বা প্রধান শিক্ষিকাকেই সরাসরি দায়ী করা হবে। অর্থাৎ, প্রশ্ন বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এবার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিতে হবে।

শিক্ষাবিদদের মতে, বর্তমান সময়ে শিক্ষার নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য এটি একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে পর্ষদ চায় রাজ্যের সমস্ত বিদ্যালয়ে শিক্ষার এক অভিন্ন মান বজায় থাকুক এবং রাজনৈতিক বা সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি যেন প্রশ্নপত্রে কোনোভাবেই স্থান না পায়। সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষা বিতর্কহীন ও স্বচ্ছ পরিবেশে অনুষ্ঠিত করাই বোর্ডের মূল লক্ষ্য।