বিশ্বজুড়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি এবার রণংদেহি রূপ ধারণ করেছে। ভেনেজুয়েলায় সফল সামরিক অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার প্রতিবেশী দেশ মেক্সিকোতে সরাসরি স্থল অভিযানের (Ground Operation) হুমকি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি বিস্ফোরক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “এবার আমরা ড্রাগ কারবারিদের বিরুদ্ধে গ্রাউন্ড অপারেশন করতে চলেছি। মেক্সিকোতে ড্রাগ মাফিয়ারা রাজত্ব করছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রতি বছর তারা প্রায় ৩ লক্ষ মানুষকে হত্যা করে।” ট্রাম্পের এই বার্তা মেক্সিকো সীমান্তে নতুন করে যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত করছে।
ভেনেজুয়েলার পতন ও তেলের রাজনীতি: ইতিমধ্যেই লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় এক রক্তক্ষয়ী অভিযান চালিয়েছে মার্কিন সেনা। রাজধানী কারাকাসে হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে একটি স্পেশাল অপারেশনের মাধ্যমে আটক করে আমেরিকায় নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমানে মার্কিন আদালতে মাদুরোর বিচার চলছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গণতন্ত্র রক্ষা কেবল একটি অজুহাত মাত্র; আমেরিকার আসল নজর ভেনেজুয়েলার বিপুল খনিজ তেলের ভাণ্ডারের ওপর। তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে বিশ্বজুড়ে একাধিপত্য বজায় রাখাই ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য।
গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের সঙ্গে সংঘাত: কেবল লাতিন আমেরিকা নয়, ট্রাম্পের নজর এবার উত্তর আটলান্টিকের বিশাল দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডের ওপর। ট্রাম্প জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ডে চিন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাব আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। তিনি ডেনমার্কের ওপর ভরসা রাখতে পারছেন না এবং স্পষ্টভাবে গ্রিনল্যান্ডকে আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি জানিয়েছেন। ডেনমার্ক সরকার এই হুমকিকে সহজভাবে নেয়নি এবং পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে।
ইরানেও হস্তক্ষেপের ছক: ওদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকেও কাজে লাগাতে চাইছেন ট্রাম্প। আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে চলা গণবিক্ষোভকে নিয়মিত সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ট্রাম্প সাফ জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর ইরান সরকার শক্তি প্রয়োগ করলে আমেরিকা চুপ করে বসে থাকবে না। মেক্সিকো থেকে ইরান—ট্রাম্পের এই আগ্রাসী নীতি এখন বিশ্ব রাজনীতিতে এক চরম উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।