বিশ্ব রাজনীতির দাবা খেলায় এবার এক চাঞ্চল্যকর মোড়। ২০১৯ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে রাশিয়া একটি ‘গোপন সমঝোতা’র প্রস্তাব দিয়েছিল বলে দাবি করেছেন মার্কিন নিরাপত্তা পরিষদের প্রাক্তন উপদেষ্টা ফিওনা হিল। রাশিয়ার প্রস্তাব ছিল সোজাসাপ্টা— ওয়াশিংটন যদি ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ওপর থেকে মস্কোর সমর্থন প্রত্যাহার চায়, তবে ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার পদক্ষেপে নাক গলানো বন্ধ করতে হবে আমেরিকাকে।
ইউক্রেন বনাম ভেনিজুয়েলা: রাশিয়ার ‘প্যাকেজ ডিল’
ফিওনা হিল মার্কিন কংগ্রেসে দেওয়া সাক্ষ্যে জানান, রুশ আধিকারিকরা বারবার একটি ‘অদ্ভুত অদলবদল ব্যবস্থার’ ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। মস্কোর যুক্তি ছিল, আমেরিকা যদি পশ্চিম গোলার্ধে (ভেনিজুয়েলা) নিজেদের প্রভাব খাটায়, তবে ইউরোপে (ইউক্রেন) রাশিয়ার প্রভাব বিস্তারে ওয়াশিংটনকে চুপ থাকতে হবে। রাশিয়ার তৎকালীন রাষ্ট্রদূত আনাতোলি আন্তোনভ একাধিকবার এই ‘গিভ অ্যান্ড টেক’ বা দেওয়া-নেওয়ার কথা তুলতেন।
মনরো নীতি ও ট্রাম্পের অবস্থান
রাশিয়া এই সমঝোতার ভিত্তি হিসেবে উনিশ শতকের বিখ্যাত ‘মনরো নীতি’-কে ঢাল করতে চেয়েছিল। হিল জানান, ২০১৯ সালে ট্রাম্প এই প্রস্তাব কানে তোলেননি। এমনকি ইউক্রেন ও ভেনিজুয়েলা যে আলাদা বিষয়, তা স্পষ্ট করতে ট্রাম্প তাঁকে মস্কো পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু ২০২৬ সালের বর্তমান পরিস্থিতি যেন সম্পূর্ণ উল্টো কথা বলছে।
মাদুরোর পতন ও পুতিনের লাভ?
সাম্প্রতিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে— তবে কি রাশিয়ার সেই পুরনো শর্তই এখন কার্যকর হচ্ছে?
-
যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তি: ওয়াশিংটন এই অভিযানকে ‘আইন প্রয়োগকারী অভিযান’ বলে দাবি করেছে।
-
রাশিয়ার তোপ: ক্রেমলিন একে সরাসরি ‘আগ্রাসন’ বলে নিন্দা জানিয়েছে।
-
বিশেষজ্ঞদের মতে: ফিওনা হিলের দাবি, ভেনিজুয়েলায় মার্কিন অভিযান আদতে পুতিনকেই সুবিধা করে দিচ্ছে। কারণ, এখন ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনকে ‘অবৈধ’ বলা আমেরিকার জন্য নৈতিকভাবে কঠিন হয়ে পড়বে।
পরবর্তী লক্ষ্য কি গ্রিনল্যান্ড ও কলম্বিয়া?
মাদুরোকে সরানোর পর ট্রাম্পের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। নতুন করে গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি এবং মাদক পাচারের অভিযোগে কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে অস্থিরতা বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
বড় শক্তিগুলোর এই প্রভাববলয় প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে বিশ্ব কি নতুন কোনো যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে? এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের।
সূত্র: এপি