হঠাৎ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে চিকিৎসকরা কী করতে বলেন? প্রথম ৫ মিনিটের এই পদক্ষেপগুলোই বাঁচায় অমূল্য জীবন!

দৈনন্দিন জীবনে অসাবধানতা কিংবা সামান্য ভুলে বৈদ্যুতিক শক খাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত সাধারণ। ঘরের খোলা তার, ভেজা হাতে সুইচ বোর্ডের ব্যবহার কিংবা ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির কারণে যেকোনো সময় মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, কোনো ব্যক্তি বৈদ্যুতিক শক (Electric Shock) বা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে পরবর্তী প্রথম পাঁচ থেকে দশ মিনিট অত্যন্ত সংকটজনক ও নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে। এই ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এর মধ্যে যদি সঠিক ও তাৎক্ষণিক প্রাথমিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়, তবে রোগীর বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়। কিন্তু সচেতনতার অভাবে এই সময়েই সাধারণ মানুষ এমন কিছু মারাত্মক ভুল করে বসেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
বৈদ্যুতিক শক খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সবচেয়ে প্রথম এবং প্রধান কাজ হলো বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করা। যদি সম্ভব হয়, তবে দ্রুত মেইন সুইচ বা সার্কিট ব্রেকার বন্ধ করে দিন। যদি মেইন সুইচ বন্ধ করা সম্ভব না হয়, তবে কোনো অবস্থাতেই খালি হাতে বা ভেজা হাতে রোগীকে স্পর্শ করা যাবে না। কাঠের শুকনো লাঠি, প্লাস্টিকের ভারী পাইপ, শুকনো চাদর বা কোনো অপ্রবাহী (Non-conducting) বস্তু ব্যবহার করে রোগীর শরীর থেকে বৈদ্যুতিক তার বা উৎসকে দূরে সরিয়ে দিন। তাড়াহুড়োয় নিজে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হবেন না, কারণ আপনার সুরক্ষাও সমানভাবে জরুরি।
বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর অবিলম্বে রোগীর অবস্থা পরীক্ষা করুন। দেখুন রোগী শ্বাস নিচ্ছেন কি না এবং তাঁর নাড়ির গতি (Pulse) ঠিকঠাক কাজ করছে কি না। যদি রোগী অচৈতন্য হয়ে পড়েন এবং তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়, তবে অবিলম্বে সিপিআর (CPR – Cardiopulmonary Resuscitation) শুরু করতে হবে। অভিজ্ঞ কেউ না থাকলে দ্রুত বুকে চাপ দিয়ে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা করতে হবে। এই সময়ে রোগীকে কোনোভাবেই গোল করে ঘিরে দাঁড়াবেন না, বরং চারপাশে পর্যাপ্ত খোলা বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করুন।
অনেক সময় মানুষ আতঙ্কিত হয়ে শক খাওয়া রোগীকে জোড়াজবস্তি জল খাওয়ানোর চেষ্টা করেন, যা মারাত্মক বিপজ্জনক হতে পারে। অজ্ঞান অবস্থায় জল বা কোনো তরল পানীয় খাওয়ানো একেবারেই অনুচিত, কারণ তা শ্বাসনালীতে ঢুকে দম আটকে দিতে পারে। এর পাশাপাশি রোগীর শরীরে কোনো আঁটসাঁট পোশাক বা টাই থাকলে তা অবিলম্বে আলগা বা খুলে দিন। অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল মনে হলেও রোগীকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে দেবেন না এবং দ্রুত স্থানীয় কোনো হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার ব্যবস্থা করুন। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তই একটি জীবন বাঁচাতে পারে।