মাত্র ৬০ ঘণ্টায় রহস্যময় ফ্লাইট! পাকিস্তানের আকাশে তুর্কি হারকিউলিস বিমানের হানা নিয়ে শোরগোল

গোয়েন্দা সূত্রের তথ্যানুযায়ী, গত ৬০ ঘণ্টায় পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর দুটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে তুর্কি সামরিক বিমানের অস্বাভাবিক ও ব্যাপক আনাগোনা লক্ষ্য করা গেছে। চলতি বছরের ১৯ থেকে ২১ আগস্টের মধ্যে তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে একাধিক তুর্কি সি-১৩০ হারকিউলিস (C-130 Hercules) পরিবহন বিমান বেশ কয়েকটি সন্দেহজনক ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। রাওয়ালপিন্ডির কাছে অবস্থিত কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নূর খান বিমানঘাঁটি এবং করাচির মাসরুর বিমানঘাঁটিতে এই বিমানগুলোকে অনবরত ওঠানামা করতে দেখা গেছে। গোয়েন্দা সূত্রগুলো শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’-কে জানিয়েছে যে এই সামরিক কার্যক্রমের ধরণ, গতিপ্রকৃতি ও ফ্রিকোয়েন্সির বিষয়টি ছিল অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং তাৎপর্যপূর্ণ।
পরপর তিন দিন ধরে তুর্কি বিমান বাহিনীর এই সি-১৩০ হারকিউলিস বিমানগুলোর একাধিক ফ্লাইট বা ‘সর্টি’ (sortie) দেশের প্রতিরক্ষা মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পরিবহন বিমানগুলো তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে নিয়মিত যাতায়াত করে সামরিক সহযোগিতার এক নতুন ও গভীর সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পাকিস্তান যখন তাদের চালকবিহীন যুদ্ধবিমান (UAV) বা ড্রোনের বহর এবং মারণাস্ত্রের মজুত ব্যাপক হারে বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে, ঠিক তখনই তুরস্কের এই সামরিক বিমানের আনাগোনা আন্তর্জাতিক মহলের বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। গোয়েন্দা তথ্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, তুর্কি ফ্লাইটগুলোর মাধ্যমে গোপনে বিপুল পরিমাণ উন্নত ড্রোন ও সংশ্লিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম পাকিস্তানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সূত্র মারফত আরও জানা গেছে যে, ড্রোন-সংক্রান্ত সরঞ্জামের পাশাপাশি পাকিস্তান তুরস্কের সহায়তায় অত্যন্ত শক্তিশালী ‘এইচকিউ’ (HQ) সিরিজের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও (air defence system) হাতে পেতে পারে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানকে সরবরাহ করা তুর্কি চালকবিহীন যুদ্ধব্যবস্থার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত নাম হলো ‘বায়রাকতার টিবি২’ (Bayraktar TB2)। এটি তুরস্কের তৈরি মাঝারি উচ্চতায় দীর্ঘ সময় ধরে আকাশে উড়তে সক্ষম একটি অত্যন্ত কার্যকর কৌশলগত ড্রোন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ধ্বংসাত্মক সাফল্যের পর ‘বায়রাকতার টিবি২’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে এবং বর্তমানে এটিকে তার শ্রেণির অন্যতম সেরা সশস্ত্র চালকবিহীন বিমান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক বিমানের এই সাম্প্রতিক আনাগোনা এমন এক संवेदनशील সময়ে ঘটল যখন পাকিস্তান তাদের পশ্চিমা সীমান্তে নজরদারি ও হামলার ক্ষমতা বাড়াতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তুরস্ক ও সৌদি আরবের সঙ্গে চলমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির আওতায় এই গোপন অস্ত্র সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি জোরকদমে চালানো হচ্ছে।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আসিম মুনির ব্যক্তিগতভাবে এই সামরিক সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি তদারকি ও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। পাকিস্তানের সামরিক শক্তির আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ড্রোন, দীর্ঘ সময় উড়তে সক্ষম চালকবিহীন প্ল্যাটফর্ম এবং ‘লোইটারিং মিউনিশন’ (loitering munitions)-এর উপর দেশটির ক্রমবর্ধমান নির্ভরশীলতা এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। এর আগেও পাকিস্তান তাদের পশ্চিমা সীমান্ত অঞ্চলে নজরদারি ও সামরিক অভিযানের মিশনে তুর্কি ড্রোন সফলভাবে ব্যবহার করেছে। তাই দুই দেশের মধ্যে তুর্কি সি-১৩০ বিমানের এই সাম্প্রতিক ঘন ঘন যাতায়াত মূলত বর্ধিত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং একটি আধুনিক ও বৈচিত্র্যময় চালকবিহীন আকাশযান বহর গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনারই অংশ।