অভিনয়ে নতুন চমক! ভেন্ট্রিলোকুইস্টের চরিত্রে কেন দর্শকের মন কাড়ছেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়?

টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় মানেই অভিনয় জগতে এক নতুন কিছু দেখার প্রত্যাশা। কোনো নির্দিষ্ট ছকে নিজেকে আটকে না রেখে বরাবরই ভিন্নধর্মী ও চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় করতে পছন্দ করেন তিনি। সম্প্রতি ড. কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায় পরিচালিত নতুন ছবি ‘হাবুল’-এ এক অভাবনীয় অবতারে ধরা দিয়েছেন এই অভিনেতা। এই সিনেমায় প্রথমবার ভেন্ট্রিলোকুইস্ট বা পুতুলনাচ শিল্পী ও তার পুতুলের মধ্যকার এক অন্যরকম রসায়ন ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি, যা ইতিমধ্যেই দর্শকদের মনে দারুণ কৌতূহল তৈরি করেছে।
ভেন্ট্রিলোকুইজম হলো এক ধরনের সুকঠিন পারফর্মিং আর্ট, যেখানে শিল্পী নিজের কণ্ঠস্বরকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন যে দেখে মনে হয় কথাটি তাঁর মুখ থেকে নয়, বরং পাশে থাকা পুতুল বা অন্য কোনো বস্তু থেকে আসছে। মুখের নড়াচড়া ন্যূনতম রেখে কণ্ঠস্বরের নিখুঁত জাদুতে এই বিশেষ ভ্রম তৈরি করা অত্যন্ত কঠিন। ‘হাবুল’ ছবিতে এই চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় করার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে শাশ্বত জানিয়েছেন যে, গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে নিজের অভিনয়সত্তাকে নতুনভাবে ঝালিয়ে নেওয়ার মধ্যেই তিনি আসল আনন্দ খুঁজে পান।
নিজের কাজের ধরন বদলানো প্রসঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে শাশ্বত স্পষ্ট ভাষায় জানান, “ভালো কাজ করতে চাই, শুধু কাজ করার জন্য কাজ আমি আর বিশ্বাস করি না।” অর্থাৎ, তাঁর কাছে এখন ছবির সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে চরিত্রের গভীরতা এবং গল্প কতটা নতুন মাত্রা দিচ্ছে, সেটাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি ছবি তৈরির প্রক্রিয়াকে বিস্কুট তৈরির সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, “ছবি তৈরি তো আর বিস্কুট তৈরি নয় যে একসঙ্গে ১০০ প্যাকেট বানিয়ে ফেললাম।” অর্থাৎ, একটি মানসম্মত চলচ্চিত্র তৈরির জন্য পর্যাপ্ত সময়, ভাবনা ও যন্ত্ৰ প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
তবে শুধু নিজের কেরিয়ার বা চরিত্র নির্বাচন নিয়ে সন্তুষ্ট নন এই অভিনেতা, বাংলা ছবির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও নিজের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। শাশ্বতের আশঙ্কা, দিন দিন বাংলা ছবির জন্য প্রেক্ষাগৃহে বা হলে যাওয়া দর্শকের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে কমে যাচ্ছে। তাই ভালো ছবি নির্মাণের পাশাপাশি সেই ছবিগুলোর প্রতি দর্শকের আগ্রহ ফিরিয়ে আনা এবং তাঁদের আবার হলমুখী করাটাই এখনকার দিনে চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয়জীবনের মুকুটে ‘হাবুল’ ছবিটি কতটা নতুন পালক যোগ করবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে সংখ্যার দৌড়ে না দৌড়ে তিনি যেভাবে মানের সঙ্গে আপস না করে প্রতিনিয়ত নিজেকে ভেঙে নতুন করে গড়ে চলেছেন, তা বাংলা সিনেমার দর্শকদের কাছে নিঃসন্দেহে একটি বড় প্রাপ্তি।