মৌলিক অধিকার ভঙ্গের অভিযোগে অনড় মহুয়া! সুপ্রিম কোর্টে বড়সড় আইনি বিপর্যয়ের মুখে তৃণমূল সাংসদ

দেশের সর্বোচ্চ আদালতে বড়সড় ও অপ্রত্যাশিত আইনি ধাক্কার মুখে পড়লেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ তথা লোকসভা সাংসদ মহুয়া মৈত্র। নিজের সংসদীয় এলাকার সার্কিট হাউস থেকে মাঝরাতে তাঁকে জোর করে বের করে দেওয়ার অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ঘটনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে মৌলিক অধিকার ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। এমনকি এই বিষয়ে আদালতের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করে দ্রুত শুনানির জোরালো আবেদনও জানানো হয়েছিল তাঁর আইনি দলের পক্ষ থেকে। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বিশেষ বেঞ্চের সামনে এই চাঞ্চল্যকর মামলাটি উল্লেখ করা হয়। তবে আদালতের বর্তমান কার্যধারা ও প্রাথমিক পর্যালোচনায় এই হাই-প্রোফাইল মামলাটি নিয়ে বিশেষ কোনো আগ্রহ বা তৎপরতা প্রকাশ করেনি শীর্ষ আদালত, যা রাজনৈতিক মহলে দারুণ শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
আদালতে সওয়াল করতে গিয়ে মহুয়া মৈত্রর আইনজীবী অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি জানান, উচ্চ আদালতের পক্ষ থেকে স্পষ্টতই তাঁকে আইনি সুরক্ষা ও ছাড় দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও কোনো রকম তোয়াক্কা না করে তাঁকে মাঝরাতে অত্যন্ত অসময়ে সার্কিট হাউস থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়। আইনজীবীর জোরালো দাবি ছিল, প্রশাসনের এমন স্বেচ্ছাচারী আচরণ সরাসরি সাংবিধানিক সংকটের একটি জটিল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে এবং প্রশাসনিক বাড়াবাড়ি ঠেকাতে সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকে কঠোর কোনো সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন বা নির্দেশিকা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু সব দিক বিবেচনা করে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ এই আবেদনে তাৎক্ষণিক কোনো গুরুত্ব দিতে নারাজ হয় এবং শুনানির বিষয়ে শীতল মনোভাব দেখায়।
রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক চেন্নাই থেকে শুরু করে জাতীয় রাজধানী পর্যন্ত এই ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হওয়া সত্ত্বেও নিজের এলাকার সরকারি অতিথি নিবাস বা সার্কিট হাউস থেকে এই ধরনের মধ্যরাতের বহিষ্কারের ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তাপ ছড়িয়েছিল। আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মৌলিক অধিকার খর্ব হওয়ার দাবি নিয়ে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হলেও সেখানে উপযুক্ত সাড়া না পাওয়ায় আইনি লড়াইয়ে সাময়িক চাপে পড়ে গেলেন এই প্রবীণ সাংসদ। আপাতত এই চাঞ্চল্যকর মামলার পরবর্তী মোড় কোন দিকে ঘোরে এবং আইনি জট কাটাতে মহুয়া শিবিরের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।