অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা মেলেনি? কাদের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে বকেয়া টাকা, বড় আপডেট দিল বিজেপি!

রাজ্যজুড়ে নতুন সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্প চালুর পর থেকেই তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যেমন উৎসাহ দেখা গেছে, তেমনই বেশ কিছু এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র অসন্তোষ। রাজ্যের বহু মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার নির্দিষ্ট আর্থিক সহায়তা এখনও হাতে পাননি বলে অভিযোগ তুলেছেন। এই পরিস্থিতিতে এই জনবহুল প্রকল্পের টাকা না পাওয়া নিয়ে তৈরি হওয়া বিভিন্ন প্রশ্নের স্পষ্ট ও জোরালো জবাব দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। রবিবার হাওড়ার একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি পরিষ্কার ভাষায় জানান, মূলত ‘সিস্টেমের সমস্যা’ এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত ‘সাবোটেজ’ বা অন্তর্ঘাতের ফলেই এই বিলম্ব ঘটছে। পাশাপাশি, অনেক জায়গায় ফর্ম ফিল-আপ করার সময় নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা কর্মীদের তরফেও গাফিলতি ও উদাসীনতা দেখা গিয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেন যে, খুব শীঘ্রই রাজ্যের আরও ৫০ লক্ষ নারী এই প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি হাতে পাবেন এবং যোগ্য প্রতিটি উপভোক্তা এই অনুদান নিশ্চিতভাবেই লাভ করবেন।
এদিন এই প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা বর্তমান ব্যবস্থার ত্রুটিগুলি তুলে ধরতে গিয়ে অত্যন্ত কড়া ভাষায় প্রশ্ন তোলেন সমাজের সচ্ছল ও অর্থনৈতিকভাবে উন্নত স্তরের মানুষের সরকারি সুবিধা নেওয়া প্রসঙ্গে। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রচুর মানুষ তথা বহু পুরুষও নিয়মিতভাবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের অর্থ নিচ্ছেন। এমনকি অনেক সরকারি চাকুরিজীবী, যেমন স্কুলের শিক্ষিকারা, যাঁদের মাসিক বেতন এক লক্ষ টাকারও অনেক বেশি, তাঁরাও এই সমস্ত সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার প্রতিযোগিতায় শামিল হচ্ছেন। তিনি জোরালোভাবে প্রশ্ন তোলেন যে, একজন উচ্চবিত্ত বা সচ্ছল শিক্ষিকাও কি নিয়মানুযায়ী অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাওয়ার যোগ্য? মূলত জনকল্যাণমূলক বা সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার প্রজেক্টগুলি তৈরিই করা হয় সমাজের একেবারে প্রান্তিক ও প্রকৃত অসহায় মানুষের কল্যাণ সাধনের জন্য। তাই এই ধরনের ত্রুটি দূর করতে নির্দিষ্ট ও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে শুধুমাত্র প্রকৃত যোগ্য ও অভাবী মানুষেরাই সরকারের এই আর্থিক সহায়তা সম্পূর্ণরূপে লাভ করতে পারেন।
অন্যদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুরে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার সময় অন্নপূর্ণা যোজনার ৩,০০০ টাকা না-পাওয়া ক্ষুব্ধ মহিলাদের একাধিক প্রশ্নের মুখে পড়েন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সাধারণ মানুষের এই ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রশমিত করতে তিনি জানান, প্রায় দুই কোটি মহিলার জমা দেওয়া ফর্ম অনলাইনে আপলোড করার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দীর্ঘ ও জটিল হওয়ায় কিছুটা বাড়তি সময়ের প্রয়োজন হচ্ছে। তাই তিনি সমস্ত আবেদনকারীকে একটু ধৈর্য ধরার বিনীত অনুরোধ জানান। অগ্নিমিত্রা পালের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, সিস্টেমের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি বা বিরোধীরা ইচ্ছাকৃতভাবে এই প্রক্রিয়ায় নানা জটিলতা তৈরি করছে এবং দেখে দেখে অযোগ্যদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে, যার জেরে আসল যোগ্য মহিলারা বঞ্চিত হয়ে ক্ষুব্ধ হচ্ছেন। তবে মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও পুরো বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক চক্রান্তের অঙ্গ বলে তিনি দাবি করেন। ইতিপূর্বে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এই প্রকল্প নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারীও। সব মিলিয়ে, আগামী দিনে এই প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে সমস্ত যোগ্য উপভোক্তাদের কাছে টাকা পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া কতটা দ্রুত সফল হয়, এখন সেটাই দেখার।