সততার দাম কি মাত্র ৫ পয়সা? উত্তরপ্রদেশের এক অবসরপ্রাপ্ত বাস কন্ডাক্টরের জীবনের গল্প শুনলে যে কারও চোখে জল আসবে। মাত্র ৫ পয়সার গরমিলের জন্য দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে আইনি লড়াই চালিয়ে অবশেষে জয়ী হলেন তিনি। যে ৫ পয়সার জন্য তাঁকে ‘চোর’ অপবাদ শুনতে হয়েছিল, এমনকি নিজের সন্তানদের কাছেও তিনি ‘দোষী’ প্রতিপন্ন হয়েছিলেন, চার দশক পর সেই সম্মান ফিরে পেয়ে আবেগে ভাসছেন ওই বৃদ্ধ। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর এই সংগ্রামের কাহিনি এখন ভাইরাল।
ঘটনার সূত্রপাত আশির দশকে। ওই বাস কন্ডাক্টর ডিউটি শেষে যখন ক্যাশ জমা দিচ্ছিলেন, তখন দেখা যায় মোট হিসেবে মাত্র ৫ পয়সা কম রয়েছে। পরিবহণ নিগম তড়িঘড়ি তদন্তের নির্দেশ দেয় এবং তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। সেই সামান্য পয়সার গরমিল তাঁর গায়ে সেঁটে দেয় ‘দুর্নীতিবাজ’-এর তকমা। শুরু হয় দীর্ঘ আইনি লড়াই। সামান্য বেতনের চাকুরে ওই ব্যক্তির কাছে উকিলের খরচ চালানো কঠিন হলেও, তিনি দমে যাননি। প্রতিবেশীরা তো বটেই, এমনকি বড় হওয়ার পর তাঁর সন্তানরাও তাঁকে সন্দেহ করতে শুরু করেছিল যে, হয়তো সত্যিই বাবা পয়সা চুরি করেছেন।
৪০ বছর পর আদালত রায় দিয়েছে যে, ওই ৫ পয়সার জন্য কোনোভাবেই কন্ডাক্টরকে দায়ী করা যায় না এবং এটি কোনো ফৌজদারি অপরাধ নয়। আদালত তাঁর সমস্ত বকেয়া পাওনা মেটানোর নির্দেশ দিয়েছে। রায়ের পর বৃদ্ধ কন্ডাক্টর কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “টাকার জন্য নয়, আমি লড়েছিলাম আমার সম্মানের জন্য। আজ আমার সন্তানরা অন্তত জানল তাদের বাবা চোর ছিল না।” নেটিজেনরা বলছেন, ব্যবস্থার জালে আটকে একজনের জীবনের ৪০ বছর নষ্ট হওয়া আধুনিক বিচারব্যবস্থার ওপর এক বড় প্রশ্নচিহ্ন।