মাত্র ৩ মিনিট দেরি! টিম লিডারের এমন অমানবিক শাস্তি দেখে চোখ কপালে তুলবে নেটদুনিয়া!

কর্নাগরী বেঙ্গালুরুর একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার দপ্তরে ঘটে যাওয়া এক চাঞ্চল্যকর অভিজ্ঞতা সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র বিতর্কের ঝড় তুলেছে। মাত্র তিন মিনিট দেরিতে অফিসে পৌঁছনোর কারণে এক কর্মীকে যে ধরনের মানসিক নির্যাতন ও অদ্ভুত শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে, তা জানলে যে কারও চোখ কপালে উঠবে। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম রেডিটে (Reddit) এক কর্মীর শেয়ার করা এই বিস্ফোরক পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে গিয়েছে।

ভুক্তভোগী ওই কর্মীর দাবি, সেদিন সকালে তাঁর একটু দেরি হয়ে গিয়েছিল। ক্যাব চালকের ফোন পেয়ে তিনি ঘুম থেকে উঠে জলদি তৈরি হয়ে অফিসে পৌঁছন। কিন্তু অফিসে পা রাখতেই টিম লিডার তাঁকে সবার সামনে তিরস্কার করতে শুরু করেন। শুধু তাই নয়, শাস্তিস্বরূপ তাঁকে দলের অন্য কর্মীদের হাজিরা দেখার এবং প্রত্যেকের ফোন করে উপস্থিতি নিশ্চিত করার মতো এক অপ্রত্যাশিত দায়িত্ব দেওয়া হয়।

অদ্ভুত ও অপমানজনক শাস্তি

কর্মচারীর ভাষ্যমতে, অফিসে দলবদ্ধভাবে হাজিরা দেওয়ার জন্য বিশেষ মার্কার বা রোস্টার পদ্ধতি রয়েছে। কিন্তু দেরিতে আসায় ওই কর্মীকে কেবল বকাঝকাই করা হয়নি, বরং যাঁদের সেদিন ডিউটিতে থাকার কথা ছিল, তাদের প্রত্যেককে ফোন করে অফিসে পৌঁছানোর খবর নেওয়ার নিদান দেন টিম লিডার। কোনো কর্মী ফোন না ধরলে তার দায় সম্পূর্ণ ওই কর্মীর ওপর চাপানো হতো এবং তাঁকে অনুপস্থিত বলে গণ্য করা হতো।

ওই কর্মী আরও অভিযোগ করেন, টিম লিডার তাঁকে বারবার ফোন করে দীর্ঘ সময় ধরে বকাঝকা করতেন। এমনকি অফিস শিফটে যোগ দেওয়ার পর থেকে টানা প্রায় পাঁচ ঘণ্টা তাঁকে কোনো ধরনের বিরতি নিতে দেওয়া হয়নি। এমনকি তিনি শৌচাগার ব্যবহারের অনুমতি চাইলে টিম লিডার তাঁর ওপর চেঁচিয়ে ওঠেন বলেও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।

বডি শেমিং থেকে আঞ্চলিক ভাষায় হেনস্থা

ওই কর্মীর দাবি, এটিই প্রথম নয়। এর আগেও তাঁর ওজন নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন ওই টিম লিডার। এমনকি কাজের ফাঁকে নিজের রাজ্যের এক সহকর্মীর সঙ্গে আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলার অপরাধেও তাঁকে দলের অন্য সদস্যদের উপহাস ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছিল। অফিসের এমন ‘বিষাক্ত’ (Toxic) পরিবেশ ও মানসিক অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে তিনি নেটদুনিয়ায় নিজের ক্ষোভ উগরে দেন।

রেডিটে এই পোস্ট সামনে আসার পরেই তা নিয়ে শোরগোল পড়ে গেছে। কমেন্ট বক্সে ক্ষোভ উগরে দিয়ে অধিকাংশ নেটনাগরিক ও প্রবীণ কর্মীরা ওই সংস্থায় চাকরি ছেড়ে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দিয়েছেন। কর্পোরেট জগতের এই চরম মানসিক চাপ এবং অমানবিক কাজের পরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন সচেতন নাগরিকরা।