মাত্র ৩০ বছরেই ডায়াবেটিসের রাজধানী ভারত! কেন ঘরে ঘরে হানা দিচ্ছে এই ‘নীরব ঘাতক’?

এক সময় ডায়াবেটিসকে ভাবা হতো ‘বড়লোকদের রোগ’ বা বার্ধক্যের লক্ষণ। আজ থেকে মাত্র তিন দশক আগেও পাড়ায় একজন ডায়াবেটিস রোগী খুঁজে পাওয়া ছিল দুষ্কর। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে আজ ভারতের প্রায় প্রতিটি ঘরেই হানা দিয়েছে এই দীর্ঘস্থায়ী ব্যাধি। আধুনিক জীবনযাত্রা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক পরিশ্রমের অনীহা আমাদের দেশকে বিশ্বের ‘ডায়াবেটিস রাজধানী’র তকমা এনে দিয়েছে।

মাদ্রাজ ডায়াবেটিস রিসার্চ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং প্রখ্যাত বিশেষজ্ঞ ডাঃ ভি মোহন এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরেছেন। ইটিভি ভারত (ETV Bharat)-এর জনসচেতনতামূলক প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি জানান, গত ৫০ বছরে ভারতে ডায়াবেটিসের চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে।

পরিসংখ্যানের ভয়াবহতা: ২% থেকে ৩০%
ডাঃ মোহন তাঁর অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করতে গিয়ে বলেন, ১৯৭২ সালে যখন তিনি প্রথম গবেষণা শুরু করেন, তখন বড় শহরগুলোতে ডায়াবেটিসের হার ছিল মাত্র ২ শতাংশ। গ্রামে তা ছিল ১ শতাংশের নিচে। কিন্তু বর্তমানে চেন্নাইয়ের মতো মেগাসিটিগুলোতে ২০ বছরের বেশি বয়সিদের মধ্যে ৩০ শতাংশই ডায়াবেটিক। সবথেকে আশঙ্কাজনক তথ্য হলো, ৫০ থেকে ৫৫ বছর বয়সিদের মধ্যে ৫০ শতাংশই এই রোগে আক্রান্ত এবং আরও ২৫ শতাংশ মানুষ ‘প্রি-ডায়াবেটিস’ পর্যায়ে রয়েছেন। অর্থাৎ, এই বয়সের ৭৫ শতাংশ মানুষই ঝুঁকির মুখে।

পেটের চর্বিই কি আসল ভিলেন?
স্থূলতা মাপার জন্য আমরা সাধারণত বডি মাস ইনডেক্স (BMI) ব্যবহার করি। কিন্তু ডাঃ মোহনের মতে, ভারতীয়দের জন্য শুধু BMI যথেষ্ট নয়। আমাদের দেশে মানুষের শরীরের তুলনায় পেটে চর্বি জমার প্রবণতা বা ‘অ্যাবডোমিনাল ওবেসিটি’ বেশি দেখা যায়। কোমরের মাপ বেড়ে যাওয়া সরাসরি ডায়াবেটিসের ঝুঁকির সংকেত দেয়। কেবল একটি সাধারণ ফিতা দিয়ে নিজের কোমরের মাপ নিয়মিত পরীক্ষা করেই আমরা এই রোগের প্রাথমিক সতর্কতা পেতে পারি। আধুনিক যুগের আসীন জীবনধারা (Sedentary Lifestyle) এবং অতিরিক্ত শর্করা জাতীয় খাবারই আমাদের এই পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy