অবসর জীবনের পরিকল্পনা আমরা অনেকেই অবহেলায় পিছিয়ে দিই, যা পরবর্তীকালে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু আপনি কি জানেন, সামান্য কিছু টাকা জমিয়েই আপনি আপনার বার্ধক্যকে সুরক্ষিত করতে পারেন? অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীদের জন্য কেন্দ্র সরকারের ‘অটল পেনশন যোজনা’ (APY) বর্তমানে দেশে সামাজিক নিরাপত্তার এক শক্তিশালী স্তম্ভ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জনপ্রিয়তার শিখরে এপিওয়াই (APY): এই প্রকল্পের জনপ্রিয়তা বর্তমানে আকাশছোঁয়া। ২০২৬ সালের ২১শে এপ্রিল পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৯ কোটি বা ৯০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ এই প্রকল্পে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে সাধারণ মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন।
অটল পেনশন যোজনা ঠিক কী? এটি ‘পেনশন ফান্ড রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি’ (PFRDA) দ্বারা পরিচালিত একটি সরকারি প্রকল্প। এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করলে ৬০ বছর বয়সের পর থেকে আপনি প্রতি মাসে ১,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত নিশ্চিত পেনশন পাবেন। আপনার মাসিক বিনিয়োগ কত হবে, তা নির্ভর করবে আপনার বয়স এবং আপনি কত টাকা পেনশন পেতে চান তার ওপর। অটো-ডেবিট সুবিধার মাধ্যমে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা জমা হওয়ার ফলে সঞ্চয় করা অত্যন্ত সহজ।
৫,০০০ টাকার পেনশন পেতে কত জমা করতে হবে? আপনি যত কম বয়সে এই যোজনায় নাম লেখাবেন, আপনার কিস্তির পরিমাণ তত কম হবে:
১৮ বছর বয়স থেকে: প্রতি মাসে মাত্র ২১০ টাকা জমা দিলেই ৬০ বছর পর থেকে আজীবন ৫,০০০ টাকা মাসিক পেনশন পাবেন।
৩০ বছর বয়স থেকে: মাসে জমা করতে হবে ৫৭৭ টাকা।
৪০ বছর বয়স থেকে: মাসে ১,৪৫৪ টাকা জমা দিতে হবে, কারণ এখানে বিনিয়োগের মেয়াদ মাত্র ২০ বছর।
পরিবারের সুরক্ষাও নিশ্চিত: এই প্রকল্পের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো পরিবারের নিরাপত্তা। যদি পেনশনভোগীর মৃত্যু হয়, তবে তাঁর স্বামী বা স্ত্রী একই পরিমাণ পেনশন আজীবন পাবেন। দুজনেরই মৃত্যুর পর, প্রায় ৮.৫ লক্ষ টাকার একটি থোক ফান্ড নমিনিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
আবেদনের যোগ্যতা: ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সী যেকোনো ভারতীয় নাগরিক এই প্রকল্পে যোগ দিতে পারেন। এর জন্য আপনার শুধুমাত্র একটি ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিস সেভিংস অ্যাকাউন্ট থাকা প্রয়োজন। দেরি না করে আজই শুরু করুন, কারণ যত আগে শুরু করবেন, বিনিয়োগের বোঝা তত কম হবে এবং ভবিষ্যৎ হবে সুরক্ষিত।





