পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে মাটি মাফিয়াদের দাপট রুখতে এক নজিরবিহীন ও কঠোর পদক্ষেপ নিলেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক অরুণ হালদার। মঙ্গলবার আবুজহাটি-১ নং গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তিনি সরাসরি হাজির হন ঘটনাস্থলে। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন, অনুমতি ছাড়াই বেআইনিভাবে পুকুর খনন করে ট্রাক্টরের মাধ্যমে মাটি পাচার করা হচ্ছে। প্রায় ২০ ফুট গভীর গর্ত করে মাটি তোলায় এলাকার পরিবেশ ও জমির গঠন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছিল।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিধায়ক অরুণ হালদার তৎক্ষণাৎ খননকাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেন। মাফিয়াদের সামনে তিনি স্পষ্ট দুটি বিকল্প তুলে ধরেন—হয় অবিলম্বে কাটা মাটি ফেরত এনে গর্ত ভরাট করতে হবে, নতুবা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে এবং তাদের দীর্ঘমেয়াদী জেল খাটতে হবে। বিধায়কের এই কড়া অবস্থান ও উপস্থিতিতে মাটি পাচারকারীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। বাধ্য হয়েই তারা প্রায় দশ ট্রাক্টর মাটি ফেরত এনে গভীর গর্ত ভরাট করে ফেলে।
পরিবেশ রক্ষায় এবং বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে বিধায়ক নিজে দাঁড়িয়ে থেকে পুরো ভরাট প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন। প্রথমবার অপরাধ হওয়ায় আপাতত অভিযুক্তদের সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হলেও, ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে কোনো রকম ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অরুণ হালদার স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগের সরকারের আমলে মাটি লুটের যে সংস্কৃতি ছিল, বর্তমান প্রশাসনের জমানায় তার কোনো স্থান নেই।
স্থানীয় বাসিন্দারা বিধায়কের এই সাহসী ভূমিকাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় এই ধরনের বেআইনি মাটি কাটার কাজ চললেও কেউ সরাসরি বাধা দেওয়ার সাহস পাননি। ফলে বিধায়কের এই তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ও প্রশাসনিক সক্রিয়তার বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।
বিজেপি বিধায়ক বলেন, “জামালপুরে অবৈধভাবে মাটি কাটার খবর পেয়েই আমি ছুটে এসেছি। মাটি লুট ও অন্যায় বরদাস্ত করা হবে না। যারা পরিবেশের ক্ষতি করেছে, তাদেরই তা ভরাট করতে হবে। মানুষ এখন সচেতন হয়েছে এবং তাঁরা আমাদের কাছে খবর পৌঁছে দিচ্ছেন। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।” ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিধায়কের এই সরাসরি হস্তক্ষেপ ও মাটি মাফিয়াদের অভিনব শাস্তি দেওয়ার ঘটনা এলাকায় এক কড়া বার্তা পৌঁছে দিয়েছে, যা ভবিষ্যতে বেআইনি মাটি কারবার রুখতে সহায়ক হবে।





