মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে শুধু বারুদ নয়, ঝরছে ভারতীয় নাবিকদের রক্তও। হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধের আবহে আটকে পড়া ‘আওয়ানা’ জাহাজের ক্যাপ্টেন রাকেশ রঞ্জন সিংয়ের (৪৭) করুণ মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা দেশ। রাঁচির আরগোরার বাসিন্দা পেশায় মার্চেন্ট নেভি অফিসার রাকেশের পরিবারের অভিযোগ, সময়মতো চিকিৎসা পেলে হয়তো আজ বেঁচে থাকতেন তিনি।
গত ২ ফেব্রুয়ারি দুবাই থেকে জাহাজে যোগ দিয়েছিলেন রাকেশ। জ্বালানি ভরে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দুবাই উপকূল থেকে ৬০ কিমি দূরে ১৮-২০ দিন আটকে থাকে জাহাজটি। গত ১৮ মার্চ হঠাৎ স্বাস্থ্যের অবনতি হলে জুনিয়র অফিসাররা এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের আবেদন জানান। কিন্তু যুদ্ধের কারণে আকাশপথ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকায় মেলেনি অনুমতি। শেষে নৌকায় করে দুবাই উপকূলে নিয়ে যাওয়ার পথে হাসপাতালেই পৌঁছাতে পারেননি তিনি; পথেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর।
বর্তমানে দুবাইয়ের শেখ রশিদ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে তাঁর দেহ। নালন্দার বাসিন্দা উমেশ কুমার, নিহতের বড় ভাই, কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দ্রুত দেহ ফেরানোর আর্জি জানিয়েছেন। বন্ধুর মৃত্যুতে শোকাতুর ক্যাপ্টেন সঞ্জীব কুমার আঙুল তুলেছেন জাহাজ কোম্পানির দায়বদ্ধতার দিকেও। দুই নাবালক সন্তান ও স্ত্রীকে রেখে রাকেশের এই অকাল প্রয়াণ আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে এক বিরাট প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিল।