মাঝরাতে বাড়ি ফেরা নিয়ে আর চিন্তা নেই! আজ থেকেই কলকাতার রাস্তায় নামছে অতিরিক্ত নাইট বাস

শহর কলকাতা আক্ষরিক অর্থেই এক এমন মহানগরী, যা কখনও পুরোপুরি ঘুমোয় না। কিন্তু দিনের আলো নিভে যাওয়ার পর এবং ব্যস্ত মেট্রো বা লোকাল ট্রেনের গতি শ্লথ হয়ে এলে সাধারণ কর্মজীবী মানুষকে বাড়ি ফেরার পথে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। বর্তমান আধুনিক যুগে কর্পোরেট সেক্টর, আইটি হাব, বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি এবং হাসপাতালের নাইট শিফটে কর্মরত অসংখ্য কর্মীকে প্রায়শই গভীর রাতে বাড়ি ফিরতে হয়। এছাড়া দূরপাল্লার ট্রেন ধরে দেরিতে স্টেশনে পৌঁছানো যাত্রীদের যাতায়াতের দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে রাজ্য পরিবহণ দফতর এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাতের কলকাতায় সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত আরও মসৃণ, সহজলভ্য এবং নিরাপদ করে তুলতে আজ, শনিবার ১ আগস্ট থেকেই কলকাতা এবং তার সংলগ্ন শহরতলিতে সরকারি রাত্রিকালীন বাস পরিষেবার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসনের এই নতুন এবং জনমুখী পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো, গভীর রাতে যাতায়াতকারী যাত্রীদের বেসরকারি ট্যাক্সি বা অতিরিক্ত ভাড়ার অ্যাপ-ক্যাবের ওপর থেকে নির্ভরতা কমানো। সাধারণ মানুষ যাতে কম খরচে এবং নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন, তার জন্য এবার রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে নিয়মিত সরকারি বাস পাওয়া যাবে। পরিবহণ দফতরের সাম্প্রতিক ঘোষণা অনুযায়ী, যে সমস্ত প্রধান রুটগুলিতে এই অতিরিক্ত রাত্রিকালীন সরকারি বাসগুলি চালানো হবে, তার মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রুট হলো— হাওড়া থেকে গড়িয়া, হাওড়া থেকে পাটুলি, হাওড়া থেকে নিউ টাউন এবং হাওড়া থেকে নীলগঞ্জ (ব্যারাকপুর)। পাশাপাশি ডানলপ থেকে বালিগঞ্জ, শিয়ালদহ থেকে ঠাকুরপুকুর এবং কাঁকুড়গাছি থেকে বেহালা রুটেও নাইট বাসের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
এই বিশেষ নাইট বাস পরিষেবা শহরের প্রায় সমস্ত জংশন ও সংযোগকারী প্রধান রাস্তাগুলোকে কভার করবে। এর ফলে যাত্রাপথে যেসব জনবহুল এলাকা বা মোড়গুলি যুক্ত থাকছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— উল্টোডাঙা, ডানলপ, শ্যামবাজার, গিরিশ পার্ক, ধর্মতলা, এক্সাইড মোড়, রুবি হাসপাতাল চত্বর, বেলেঘাটা, রাসবিহারী অ্যাভিনিউ, টালিগঞ্জ, সায়েন্স সিটি, খিদিরপুর, পার্ক সার্কাস, হাওড় স্টেশন প্রাঙ্গণ, গড়িয়া, রথতলা, যাদবপুর ৮বি বাসস্ট্যান্ড এবং করুণাময়ী বাস টার্মিনাস। রাজ্য সরকারের এই সুচিন্তিত উদ্যোগের ফলে রাতের বেলা যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ বহু দিক থেকে লাভবান হবেন। প্রথমত, রাতের দিকে পর্যাপ্ত পরিমাণে সরকারি বাস উপলব্ধ থাকায় যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি পার্ক, কর্পোরেট অফিস এবং হাসপাতালের নাইট শিফটের কর্মীরা অত্যন্ত নিরাপদে ও সাশ্রয়ী মূল্যে বাড়ি ফিরতে পারবেন। তৃতীয়ত, গভীর রাতে দূরপাল্লার ট্রেন থেকে স্টেশনে নেমে বাড়ি পৌঁছানোর কানেক্টিভিটি বা যোগাযোগ ব্যবস্থা আগের তুলনায় অনেক বেশি সহজ ও স্বস্তিদায়ক হবে। সার্বিকভাবে বলতে গেলে, রাতের কলকাতার গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও বেশি জনবান্ধব করে তুলতে সরকারের এই সাহসী পদক্ষেপ শহরবাসীর দীর্ঘদিনের বড় সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে চলেছে।