আজ থেকেই রাজ্যে শুরু মেগা জনগণনা! ঘরে বসেই অনলাইনে কীভাবে ফর্ম ফিল-আপ করবেন? রইল ডাইরেক্ট লিঙ্ক

আজ, শনিবার অর্থাৎ ১ অগস্ট থেকে সারা দেশের পাশাপাশি আমাদের রাজ্যেও আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেল বহুল প্রতীক্ষিত ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জনগণনা বা সেন্সাস (Census) প্রক্রিয়া। তবে এবারের জনগণনার পুরো পদ্ধতিটিই ঐতিহাসিক এবং সম্পূর্ণ আলাদা, কারণ ভারতীয় ইতিহাসের এই প্রথমবার চিরাচরিত প্রথার বাইরে বেরিয়ে পুরোপুরি ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনগণনা সম্পন্ন করা হচ্ছে। এই আধুনিক ডিজিটাল সেন্সাসের প্রথম এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ধাপ হিসেবে আগামী ১৫ দিন অর্থাৎ ১ অগস্ট থেকে ১৫ অগস্ট পর্যন্ত গোটা রাজ্যজুড়ে একযোগে ‘সেল্ফ এনুমারেশন’ (Self Enumeration) বা নিজে থেকে তথ্য নথিভুক্তকরণের প্রক্রিয়া চালু থাকছে। এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে রাজ্যের সচেতন বাসিন্দারা সম্পূর্ণ ঘরে বসে, অনলাইনে নিজেদের মোবাইল বা কম্পিউটারের মাধ্যমে নিজেরাই সমস্ত জনগণনার ফর্ম নির্ভুলভাবে পূরণ করতে পারবেন।
সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে এই সেল্ফ এনুমারেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য গতকাল শুক্রবার রাতেই সমস্ত প্রয়োজনীয় অফিশিয়াল লিঙ্ক সক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে। কলকাতা পুরসভার কমিশনার তথা কলকাতার প্রিন্সিপাল সেন্সাস অফিসার স্মিতা পান্ডে এক বিশেষ সাংবাদিক বৈঠকে এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, সাধারণ নাগরিকরা সরাসরি Census of India Self Enumeration Portal লিঙ্কে ক্লিক করেই খুব সহজেই নিজে থেকে জনগণনার ফর্ম অনলাইনে পূরণ করতে পারবেন। ডিজিটাল মাধ্যমে সেন্সাসের এই ফর্ম সফলভাবে পূরণ হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্ক্রিনে একটি বিশেষ ও নির্দিষ্ট কোড নম্বর জেনারেট হবে। এই ডিজিটাল কোড নম্বরটি অত্যন্ত যত্নে সংরক্ষণ করতে হবে, কারণ পরবর্তী সময়ে সরকারি আধিকারিকরা যখন তথ্য যাচাইয়ের জন্য সরাসরি বাড়ি বাড়ি আসবেন, তখন এই কোডটি তাঁদের দেখাতে হবে।
কলকাতার মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহরের জনগণনার কাজটিকে রাজ্য প্রশাসন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কারণ কলকাতা একটি অত্যন্ত মেট্রোপলিটন শহর, যেখানে বিভিন্ন জেলা এবং ভিনরাজ্য থেকে এসে বহু মানুষ স্থায়ী ও অস্থায়ীভাবে বসবাস করেন। তাই অনলাইনের মাধ্যমে নিজে থেকে ফর্ম পূরণ করার এই নির্দিষ্ট প্রক্রিয়াটি শেষ হওয়ার পরেই সরকারি কর্মীরা সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমস্ত নথি ও তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখবেন। প্রশাসনিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শুধু কলকাতার ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে মোট ৮,১০৫টি বাড়ি বা ব্লকের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে মোট ৮,২০০ জন দক্ষ কর্মীকে জনগণনার কাজে নিযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ১৪০০ জন অভিজ্ঞ আধিকারিক সুপারভাইজারের দায়িত্ব পালন করবেন।
জনগণনা প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, দ্রুত এবং সর্বজনগ্রাহ্য করে তুলতে প্রশাসন একটি অত্যন্ত অভিনব এবং প্রশংসনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। শহরের প্রায় ৭০০টি নামী সরকারি স্কুল এবং ৩০০টি বেসরকারি স্কুলকে এই বিশেষ কাজের জন্য বাছাই করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে এবং ফর্ম ফিল-আপ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে এই সমস্ত স্কুলের অষ্টম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণির মেধাবী পড়ুয়াদের সাহায্য নেওয়া হবে, যা এই প্রক্রিয়ায় এক নতুন গতি এনে দেবে। আজ শনিবার থেকেই কলকাতা পুরসভার আওতাধীন ১৬টি বরোতেই জনগণনার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা সরেজমিনে পরিদর্শনে বের হচ্ছেন। প্রতিটি বরোর জন্য সুনির্দিষ্টভাবে পাঁচটি করে পৃথক টিম গঠন করা হয়েছে, যারা সার্বিক পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখবেন। তাই দেরি না করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনেই আপনার কাজটি সেরে ফেলুন।