পশ্চিম এশিয়ায় ড্রামাটিক পরিস্থিতির মাঝেই ভারতের রাজধানী দিল্লিতে এক উচ্চপর্যায়ের গোপন বৈঠক ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত দোভাল এবং চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (CDS) জেনারেল অনিল চৌহান এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে মনে করা হচ্ছে ইরান এবং ইজরায়েলের মধ্যে বাড়তে থাকা সরাসরি সংঘাত এবং তার ফলে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তায় সৃষ্ট ঝুঁকি মোকাবিলা করা।
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈঠকটি নিছক আলোচনা নয়, বরং কোনো বড় ‘অশনি সংকেত’-এর আগাম প্রস্তুতি। ইরান এবং ইজরায়েল—উভয় দেশের সাথেই ভারতের সুসম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু সংঘাত চরম পর্যায়ে পৌঁছালে সমুদ্রপথে ভারতের বাণিজ্য এবং জ্বালানি তেলের সরবরাহে বড় আঘাত আসতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরে হুতি বিদ্রোহীদের সক্রিয়তা ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দোভাল এবং চৌহানের উপস্থিতিতে সামরিক ও গোয়েন্দা কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে খবর।
অন্যদিকে, ইরানে আটকে থাকা কয়েক হাজার ভারতীয় শ্রমিকের সুরক্ষা এবং তাদের উদ্ধারের (Evacuation) ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করাও এই বৈঠকের অন্যতম এজেন্ডা হতে পারে। যদি যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে ভারতের অর্থনীতিতে বড়সড় টান পড়তে পারে। এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতে ভারত কি নিরপেক্ষ থাকবে নাকি মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেবে, তা এখন বড় প্রশ্ন। অজিত দোভাল ও অনিল চৌহানকে নিয়ে জয়শঙ্করের এই বৈঠক স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে ভারত কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ এবং যেকোনো পরিস্থিতির জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনী ও কূটনৈতিক মহল প্রস্তুত রয়েছে।