মাকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল ছেলের! বিদ্যুতের মরণফাঁদে শেষ এক হাসিখুশি পরিবার

শিলিগুড়ির ভক্তিনগর থানা এলাকার ভবসিন্ধু কলোনিতে বুধবার রাতে নেমে এল ঘোর অন্ধকার। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হলো মা ও ছেলের। মৃতদের নাম প্রমিলা রায় (৫৫) এবং তাঁর বড় ছেলে রাজু রায় (২৭)। এই ঘটনায় সুনিতা সাউ নামে আরও এক তরুণী গুরুতর আহত অবস্থায় শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার রাতে। পক্ষাঘাতগ্রস্ত প্রমিলা রায় অসাবধানবশত বিদ্যুতের সংস্পর্শে চলে এলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। মাকে বিপদে দেখে বাঁচাতে ছুটে যান ছেলে রাজু। কিন্তু ততক্ষণে বিদ্যুতের তীব্র শক তাঁকে গ্রাস করে। পরিবারের অন্য সদস্যরা তাঁদের বাঁচাতে গেলে তাঁরাও শক খেয়ে ছিটকে পড়েন। তড়িঘড়ি তাঁদের উদ্ধার করে সেবক রোডের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এদিকে, একই সময়ে ওই পাড়ার বাসিন্দা সুনিতা সাউ নিজের বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ পরীক্ষা করতে গিয়ে শর্ট সার্কিটের কবলে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ভবসিন্ধু কলোনির একাধিক বাড়ির টিনের ছাদে বিদ্যুৎ প্রবাহ ছড়িয়ে পড়েছিল, যা এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার মূল কারণ। বাসিন্দাদের অভিযোগ, বারবার বিদ্যুৎ দফতরে ফোন করা সত্ত্বেও কর্মীরা প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা দেখে ভক্তিনগর থানার আইসি মহেশ্বর মাঝি নিজে বিদ্যুৎ দফতরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। স্থানীয় বাসিন্দা অমল রায়ের ক্ষোভ, বারবার অভিযোগ জানানোর পরেও বিদ্যুৎ দফতরের উদাসীনতায় প্রাণ হারাতে হলো দুজনকে।
পরে বিদ্যুৎ কর্মীরা এসে গোটা এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। স্থানীয়দের রাতের অন্ধকারে বাড়ির বাইরে না বেরোনোর নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। শর্ট সার্কিট কীভাবে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে বিদ্যুৎ দফতর। দুই তলা বাড়ির এই মৃত্যুতে গোটা এলাকা জুড়ে কান্নার রোল। হাসিখুশি একটি পরিবার নিমেষেই ছারখার হয়ে যাওয়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে শিলিগুড়িতে।