বাংলার ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের ধাঁচে বিজেপি শাসিত মহারাষ্ট্রে মহিলাদের আর্থিক অনুদান দেওয়ার জন্য চালু হওয়া ‘মুখ্যমন্ত্রী লাডকী বহনী যোজনা’-য় (Maharashtra Ladki Bahin Yojana) ধরা পড়েছে এক নজিরবিহীন দুর্নীতি। এই প্রকল্পে মহিলাদের মাসে দেড় হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা থাকলেও, সুবিধাভোগীদের তালিকায় উঠে এসেছে ১২ হাজারেরও বেশি পুরুষের নাম এবং প্রায় আড়াই হাজার সরকারি কর্মীর নাম। অভিযোগ, এই প্রকল্পের বিপুল অর্থ বেআইনিভাবে তুলে নেওয়া হয়েছে।
পুরুষদের পকেটে ২৪ কোটি, মোট বেহাত ১৬৪ কোটি
মহারাষ্ট্রের নারী ও শিশু কল্যাণ দফতর সূত্রে জানা গেছে, এক বছর আগে চালু হওয়া এই প্রকল্পে মোট ১২ হাজার ৪৩১ জন পুরুষ অবৈধভাবে টাকা তুলেছেন। গত এক বছরে শুধুমাত্র এই পুরুষ সদস্যদের ভাতা জোগাতে সরকারি কোষাগার থেকে খরচ হয়েছে প্রায় ২৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা।
তবে দুর্নীতি এখানেই শেষ নয়। নিয়মবহির্ভূতভাবে ৭৭ হাজার ৯৮০ জন ‘অযোগ্য’ মহিলাও গত এক বছর ধরে আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন। তাঁদের একাউন্টে ঢুকেছে আরও ১৪৪ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে, এক বছরেই এই মহিলা কল্যাণ প্রকল্প থেকে ১৬৪ কোটি টাকার বেশি বেআইনিভাবে সরকারি তহবিল থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে।
সুবিধাভোগী ২৪০০ সরকারি কর্মচারী!
আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হল, এই প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তালিকায় নাম রয়েছে প্রায় ২৪০০ সরকারি কর্মচারীরও। এই প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারী কিংবা সরকারের আর্থিক সুবিধা পান এমন কারও আবেদন করার সুযোগ নেই। ওই ২৪০০ সরকারি কর্মচারীর বিষয়ে মহারাষ্ট্র সরকার সার্ভিস রুল মেনে তদন্ত শেষে কঠোর পদক্ষেপ করবে বলে দপ্তর জানিয়েছে।
তদন্তের নির্দেশ, প্রশ্নের মুখে চক্র
বর্তমানে এই অনিয়ম নজরে আসার পর পুরুষ ও অযোগ্য মহিলাদের নাম বাতিল করা হলেও, কীভাবে এই দুর্নীতির চক্র কাজ করেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। মহারাষ্ট্র সরকার এখন এই বিপুল অর্থ ব্যক্তি বিশেষের কাছে গেছে নাকি কোনো শক্তিশালী চক্র হাতিয়েছে, তা জানতে গোয়েন্দা তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার কথা ভাবছে।
মহারাষ্ট্র সরকারের দাবি, বর্তমানে এই প্রকল্পে প্রতিমাসে দেড় হাজার টাকা করে পাচ্ছেন ২ কোটি ৪১ লাখ মহিলা। এই ভাতা জোগাতে প্রতি মাসে সরকারের তহবিল থেকে প্রায় ৩৭০০ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। মহারাষ্ট্রের নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী অদিতি নটকরে জানিয়েছেন, মাসকয়েক আগে প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তালিকা খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছিল, তাতেই এই অনিয়ম ধরা পড়েছে। এবার বিস্তারিত তদন্তের বিষয়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে।
প্রসঙ্গত, গত বছর বিধানসভা নির্বাচনের আগে একনাথ শিন্দের সরকার প্রকল্পটি চালু করেছিল। সেই সময় প্রচারের জন্য ১৯৯ কোটি টাকা খরচ হওয়া নিয়েও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল।