মহালয়ার আগে পুজো উদ্বোধন নয়, অষ্টমীতে সম্পূর্ণ ‘ড্রাই ডে’! দুর্গাপুজো নিয়ে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রথম দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে একাধিক কঠোর ও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করল সরকার। সোমবার মিলনমেলা প্রাঙ্গণে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হয়ে শারদোৎসবের রূপরেখা স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুজোর শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং ঐতিহ্য রক্ষা করতে একগুচ্ছ কড়া শর্ত ও নিয়মের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিগত জমানার মতো মাতৃপক্ষ বা দেবীপক্ষ শুরু হওয়ার আগে অর্থাৎ মহালয়ার আগে কোনোভাবেই দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করা যাবে না। পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থায় বড়সড় রদবদল আনা হয়েছে। রাজ্যের কোথাও জাতীয় সড়ক আটকানো যাবে না। বিশেষ করে কলকাতার ক্ষেত্রে যানজট এড়াতে রেড রোড, ডিএল খান রোড, লেনিন সরণি, প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোড এবং পার্ক সার্কাস কানেক্টর-সহ মোট ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বন্ধ করে পুজো করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

উৎসবের দিনগুলিতে আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আরও বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপের ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দুর্গাপুজো এবং প্রতিমা বিসর্জনের সময় কোনোভাবেই ডিজে (DJ) বাজানো যাবে না; এটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া মহাষ্টমীর দিন রাজ্যজুড়ে সমস্ত মদের দোকান ও বার সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। আগামী ২৪ অক্টোবর অর্থাৎ কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর আগের দিনের মধ্যেই সমস্ত প্রতিমা বিসর্জনের কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমা নির্মাণ, প্যান্ডেল বা পুজোর থিম নির্বাচনের ক্ষেত্রেও বিশেষ বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অনুরোধ করেছেন, এমন কোনো বিষয় ফুটিয়ে তোলা বা প্রদর্শণ করা যাবে না যা রাজ্যের সনাতনী ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আঘাত করে। পাশাপাশি, সরকারি অনুদান নিয়ে বড় ক্লাবগুলির উদ্দেশ্যে তিনি জানান, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ১ লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়া হলেও যে সমস্ত বড় ও আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ক্লাবগুলির অনুদানের প্রয়োজন নেই, তারা যদি সেই আর্থিক সাহায্য বর্জন করে, তবে তাদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাবেন মুখ্যমন্ত্রী।