খাড়গের সমাবেশ ঘিরে তুলকালাম! ‘শুদ্ধিকরণ’ বিতর্কে সোজা রাষ্ট্রপতির দরবারে ক্ষুব্ধ কংগ্রেস সাংসদরা

উত্তরাখণ্ডের হলদওয়ানিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের জনসভার পর সেই স্থান ‘শুদ্ধিকরণ’ করার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে ঝড় উঠেছে। এই ঘটনাকে অপমানজনক ও বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে সোচ্চার হয়েছে কংগ্রেস। ঘটনার প্রতিবাদে এবং উপযুক্ত পদক্ষেপের দাবিতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলের তফসিলি জাতি (এসসি) ও তফসিলি উপজাতি (এসটি) সাংসদরা।
সোমবার রাজধানীর ইন্দিরা ভবনে এই ইস্যু নিয়ে কংগ্রেসের এসসি-এসটি সাংসদ ও প্রবীণ নেতাদের একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ মাল্লু রবি, কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক কে. রাজু এবং উত্তরপ্রদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথা কংগ্রেসের এসসি বিভাগের চেয়ারম্যান রাজেন্দ্র পাল গৌতমসহ ৩২ জন সাংসদ।
বৈঠক শেষে সাংসদ মাল্লু রবি জানান, হলদওয়ানির এই অপমানজনক ঘটনাকে দল অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। বিষয়টি নিয়ে সর্বস্তরে লড়াই চালানো হবে এবং মঙ্গলবারই রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হবে। কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক কে. রাজু এই ধরনের সামাজিক গোঁড়ামি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য একটি স্থায়ী এসসি-এসটি ফোরাম গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। রাজেন্দ্র পাল গৌতম অভিযোগ করেছেন, বাবু জগজীবন রামের আমল থেকে শুরু করে আজও পর্যন্ত দলিত ও প্রান্তিক নেতাদের সভাস্থল নিয়ে এমন মানসিকতা বজায় রাখা হয়েছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।
এর আগে রাহুল গান্ধীও এই কথিত শুদ্ধিকরণের তীব্র সমালোচনা করে এফআইআর দায়ের করার দাবি জানিয়েছিলেন। লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগে এই বিতর্ককে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে দলিত আবেগ ও রাজনীতির পারদ যে চড়তে শুরু করেছে, তা বলাই বাহুল্য।