মহারাষ্ট্রে বড় ধাক্কা! মন্ত্রীদের দপ্তর থেকে একঝটকায় সরানো হলো সাড়ে পাঁচশো কর্মীকে

মহারাষ্ট্রের মহাযুতি সরকারের তরফে মন্ত্রীদের কার্যালয়ের জন্য মোট ৯০৪টি অস্থায়ী পদ বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ের পর্যালোচনায় দেখা যায়, নির্ধারিত পদ্ধতি বা নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রায় ৫৫০ জন অতিরিক্ত কর্মচারী ও কর্মকর্তা বিভিন্ন উপায়ে মন্ত্রীদের দপ্তরে কর্মরত ছিলেন। অন্য বিভাগ থেকে অস্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত এই ব্যক্তিরা ‘লোন এমপ্লয়ি’ বা ধার করা কর্মচারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এর মধ্যে বহিরাগত এবং সম্পূর্ণ মৌখিক আদেশে নিযুক্ত ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
এই অনিয়ম রুখতে গত ২৫শে আগস্ট সাধারণ প্রশাসন বিভাগ একটি কঠোর সরকারি আদেশ জারি করে। নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, আগামী ১০ই সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ না করে নিয়োগ হওয়া সমস্ত কর্মীকে নিজ নিজ মূল বিভাগে ফেরত পাঠাতে হবে। এমনকি আদেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বেতন আটকে দেওয়ার মতো কঠোর সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ নির্বাহী কর্মকর্তা চন্দ্রশেখর ভাজে এই পুরো বিষয়টি অত্যন্ত কড়াকড়িভাবে পর্যবেক্ষণ করেন এবং সময়সীমা শেষ হতেই এই বড় ছাঁটাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত প্রশ্ন তৈরি, বিভাগীয় শুনানি, ফাইল বা নথি নিষ্পত্তি এবং নির্বাচনী এলাকার নানা কাজের জন্য মন্ত্রীদের দপ্তরে অতিরিক্ত কর্মীর প্রয়োজন হয়। এই কারণে অতীতে বহু মন্ত্রী নিয়ম ভেঙে অন্যান্য বিভাগ থেকে নিজেদের দপ্তরে কর্মী এনেছিলেন। তবে এই কঠোর পদক্ষেপে মহাজোট সরকারের তিন শরিক দলের মন্ত্রীরাই বড় ধাক্কা খেয়েছেন। এমনকি উপ-মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় এবং চারজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিবদেরও দপ্তর ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে মন্ত্রীরা অসন্তুষ্ট হলেও, ভবিষ্যতে মন্ত্রীদের দপ্তরে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ের তদারকি যে আরও কঠোর হবে, তা বলাই বাহুল্য।