ভারতজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হাজার হাজার শিব মন্দিরের মধ্যে এমন কিছু প্রাচীন স্থাপত্য রয়েছে, যা আধুনিক বিজ্ঞানের যুক্তিকেও হার মানায়। এই মন্দিরগুলোর অলৌকিক ঘটনা আজও ভক্ত ও পর্যটকদের কাছে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন।
প্রথমেই আসে রাজস্থানের ধৌলপুরের অচलेश्वर মহাদেব মন্দির। এই মন্দিরের রহস্য হলো এখানকার শিবলিঙ্গটি দিনে তিনবার নিজের রং পরিবর্তন করে। ভোরে লাল, দুপুরে জাফরানি এবং সন্ধ্যায় এটি হয়ে যায় নীলচে বা সাদাটে। বিজ্ঞানীরা অনেক পরীক্ষা করেও এর সঠিক কারণ ব্যাখ্যা করতে পারেননি। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে গুজরাটের স্তম্ভেশ্বর মহাদেব মন্দির। এটি ‘উধাও মন্দির’ নামে পরিচিত। আরবসাগরের তীরে অবস্থিত এই মন্দিরটি জোয়ারের সময় সম্পূর্ণভাবে সমুদ্রের জলে তলিয়ে যায় এবং ভাটার সময় আবার দৃশ্যমান হয়। মহাদেবের এই জল-অভিষেক দেখার জন্য হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেন।
তৃতীয়টি হলো তামিলনাড়ুর আইরাবতেশ্বর মন্দির। এখানকার প্রবেশপথের পাথর খোদাই করা সিঁড়িতে পা রাখলে সপ্তসুর বা সাতটি আলাদা সংগীতের ধ্বনি নির্গত হয়, যা আজও স্থাপত্যবিদ্যার এক বিস্ময়। চতুর্থ স্থানে রয়েছে হিমাচল প্রদেশের বিজলী মহাদেব মন্দির। কথিত আছে, প্রতি ১২ বছর অন্তর এই মন্দিরের ওপর আকাশ থেকে ভয়াবহ বজ্রপাত হয়, যার ফলে শিবলিঙ্গটি ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, মন্দিরের পুরোহিত মাখন দিয়ে সেই টুকরোগুলো জুড়ে দিলে কিছুদিনের মধ্যেই তা আগের অবস্থায় ফিরে আসে। এই অমীমাংসিত রহস্যগুলোই ভারতকে মহাদেবের লীলাভূমি হিসেবে বিশ্বের কাছে তুলে ধরেছে।