মহাকাশ থেকেই কাস্ট হলো ভোট! নাসার ঐতিহাসিক উদ্যোগে তাক লাগাল ইন্টারন্যাশন্যাল স্পেস স্টেশন

ভোট দেওয়া মানেই সাধারণত লাইনে দাঁড়িয়ে ব্যালট পেপার বা ইভিএমের বোতাম টিপে নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করা। কিন্তু পৃথিবীর গণ্ডি ছাড়িয়ে মহাশূন্যে ৪০০ কিলোমিটার উঁচুতে মাইক্রোগ্র্যাভিটিতে ভেসে থেকেও যে ভোট দেওয়া সম্ভব, তা আবারও প্রমাণ করে দেখালেন মহাকাশচারীরা। সদ্য সমাপ্ত মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে এক অত্যন্ত ব্যতিক্রমী ও নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল বিশ্ব। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (ISS) থেকে সফলভাবে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাসার মহাকাশচারী অনিল মেনন সহ আরও দুই মার্কিন ক্রু সদস্য। মহাশূন্য থেকে ভোটদানের এই রুদ্ধশ্বাস ও অত্যাধুনিক প্রক্রিয়াটি বর্তমানে ইন্টারনেটে ঝড়ের বেগে ভাইরাল হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা একটি ভিডিওবার্তায় অনিল মেনন মহাকাশের সেই অনন্য ভোটকেন্দ্রের ঝলক সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেন। তিনি জানান, মহাকাশযানের ক্রু কোয়ার্টারটিকেই সেদিন ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল এবং সেখান থেকেই তিনি টেক্সাসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিজের ভোট দিয়েছেন। প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল হওয়ায় সাধারণ অনুপস্থিত ভোটদানের (Absentee Voting) পদ্ধতি থেকে এটি সম্পূর্ণ আলাদা। মহাকাশচারীরা মহাশূন্যে বসেই একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ও এনক্রিপ্টেড ইলেকট্রনিক ব্যালট পান, যা স্টেশনের ল্যাপটপের মাধ্যমে পূরণ করে নাসার বিশেষ যোগাযোগ ব্যবস্থার মারফত পৃথিবীতে নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে নিরাপদে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

মহাকাশ থেকে ভোটদানের এই যুগান্তকারী ইতিহাস অবশ্য একদিনে তৈরি হয়নি। এর নেপথ্যে রয়েছে প্রায় তিন দশক আগের এক সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ। ১৯৯৭ সালে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের তৎকালীন গভর্নর জর্জ ডব্লিউ বুশ একটি বিশেষ আইন পাস করেছিলেন, যা মহাকাশ অভিযানের কারণে ভোটদানে অক্ষম নভোচারীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করেছিল। সেই একই বছর ডেভিড উলফ মির মহাকাশ স্টেশন থেকে প্রথম আমেরিকান হিসেবে মহাশূন্য থেকে ভোট দিয়ে এই ঐতিহ্যের সূচনা করেছিলেন। বর্তমান প্রযুক্তির হাত ধরে অনিল মেনন ও তাঁর সহকর্মীরা সেই ঐতিহাসিক ধারাকেই আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেলেন।