“আমি আমার স্ত্রীকে মেরে ফেলেছি!” শ্বশুরকে ফোন করে খুনের ভয়ংকর কথা বলতেই উধাও অটোচালক স্বামী

উত্তরপ্রদেশের বারাবাঁকি শহরের কোতোয়ালি এলাকার রসুলপুর মহল্লায় সংঘটিত হয়েছে এক নৃশংস ও চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। ১০ বছরের দীর্ঘ প্রেম-বিবাহের সম্পর্কের করুণ পরিণতি হিসেবে স্ত্রীর চরিত্রগত সন্দেহ এবং তৃতীয় ব্যক্তির অনুপ্রবেশের বচসাকে কেন্দ্র করে নিজের স্ত্রীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে খুন করেছে স্বামী। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, ঠান্ডা মাথায় এই জঘন্য অপরাধ ঘটার পর অভিযুক্ত স্বামী তার আট বছরের অবুঝ কন্যা সিদ্ধিকে ঘরের ভেতর রেখেই বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে চম্পট দেয়। এই পৈশাচিক ঘটনায় গোটা এলাকায় গভীর আতঙ্ক ও তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় এক দশক আগে সীমা ও অটোচালক সন্দীপের মধ্যে প্রেম সম্পর্কের জেরে কোর্ট ম্যারেজ হয়েছিল। জীবিকার তাগিদে দম্পতি প্রায়ই লখনউ যাতায়াত করতেন। কিন্তু বিগত বেশ কিছুদিন ধরে স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে বলে সন্দীপের মনে তীব্র সন্দেহ দানা বেঁধেছিল। এই নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়শই অশান্তি ও হাতাহাতি লেগেই থাকত। ঘটনার দিন রাতে পরিস্থিতি চরমে পৌঁছালে সন্দীপ তার স্ত্রী সীমাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এর পরই সে সরাসরি তার শ্বশুর ধর্মেশকে ফোন করে অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় জানায় যে, তাঁদের মধ্যে তীব্র ঝগড়ার জেরে সে সীমাকে খুন করেছে এবং মৃতদেহটি ঘরের ভেতরেই ফেলে রেখেছে।
জামাইয়ের মুখে এমন লোমহর্ষক কথা শুনে হতবাক হয়ে যান বাবা ধর্মেশ। প্রায় সাত ঘণ্টা দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে তিনি যখন ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছান, তখন দেখতে পান গোটা বাড়িটিতে বাইরে থেকে তালা ঝুলছে। এরপর স্থানীয় কাউন্সিলর ব্রিজেশের সহযোগিতায় জরুরি নম্বর ১১২-এ ডায়াল করে পুলিশকে সমস্ত ঘটনা জানানো হয়। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) বিবেক তিওয়ারি এবং সিটি সার্কেল অফিসার (সিও) আফতাব আলম একদল দক্ষ পুলিশ ফোর্স নিয়ে অবিলম্বে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং নিখুঁতভাবে বিভিন্ন ফরেন্সিক প্রমাণ সংগ্রহ করেন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত সন্দীপের মা সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান যে সন্দীপ নিজের পছন্দে সীমাকে বিয়ে করলেও তাদের পারিবারিক কলহের কারণে তারা বরাবরই দূরত্ব বজায় রেখে চলতেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, সন্দীপের অনুপস্থিতিতে প্রায়ই এক অপরিচিত ব্যক্তি তাদের বাড়িতে যাতায়াত করত, যার জেরে পারিবারিক অশান্তি চরম আকার ধারণ করেছিল। কিছুদিন আগে এই একই কলহের জেরে সীমা বাপের বাড়ি চলে গেলেও পরবর্তীতে আবার ফিরে আসে। এই ত্রিকোণ প্রেমের সন্দেহ এবং চরম মানসিক দ্বন্দ্বই যে এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ, সে বিষয়ে জোরালো সন্দেহ প্রকাশ করেছে পুলিশ।
এদিকে, এই ঘটনার জেরে দম্পতির আট বছরের নিষ্পাপ কন্যা সিদ্ধির ভবিষ্যৎ এখন সম্পূর্ণ অন্ধকারাচ্ছন্ন। ঘটনার সময় শিশুটি বাড়িতেই ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। নগর পুলিশ থানার পক্ষ থেকে মৃত সীমার নিথর দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। পলাতক অভিযুক্ত স্বামী সন্দীপকে গ্রেপ্তার করতে এবং তার গোপন আস্তানাগুলি খুঁজে বের করতে একাধিক পুলিশ টিম জোরদার তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।