মহাকাশে ভারতের ‘তৃতীয় নয়ন’! এবার ইসরোর সাথে হাত মেলাচ্ছে বেসরকারি সংস্থা, শত্রুপক্ষের ওপর নজর রাখা হবে আরও সহজ

মহাকাশ বিজ্ঞানে ভারত মানেই এতদিন ছিল শুধুই ‘ইসরো’ (ISRO)। কিন্তু সময় বদলেছে। ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও নিশ্ছিদ্র করতে এবার ইসরোর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ময়দানে নেমেছে ভারতের বেসরকারি সংস্থাগুলো। শত্রু দেশের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে ভারত এখন আর কেবল বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং দেশীয় স্টার্টআপগুলোই এখন তৈরি করছে উন্নতমানের স্পাই স্যাটেলাইট (Spy Satellite) বা গুপ্তচর উপগ্রহ।

ভারত সরকারের ‘মহাকাশ সংস্কার’ (Space Reforms) নীতির ফলে এখন বেসরকারি সংস্থাগুলোর জন্য মহাকাশের দরজা খুলে গেছে, যার সরাসরি সুফল পাচ্ছে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।

কেন এই উদ্যোগ ভারতের জন্য জরুরি?

ভারতের সীমান্ত পরিস্থিতি সবসময়ই উত্তপ্ত থাকে। এলএসি (LAC) বা এলওসি (LoC)-তে শত্রুপক্ষের সামান্যতম নড়াচড়া ধরা পড়ার জন্য প্রয়োজন হাই-রেজোলিউশন ইমেজ।

  • নির্ভরশীলতা কমানো: এতদিন হাই-রেজোলিউশন স্যাটেলাইট ছবির জন্য ভারতকে বিদেশি কোম্পানিগুলোর মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হতো।

  • রিয়েল-টাইম তথ্য: দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি উপগ্রহের মাধ্যমে এখন অনেক কম সময়ে এবং নিখুঁতভাবে সীমান্তের ছবি হাতে পাবে ভারতীয় সেনা।

বেসরকারি সংস্থাগুলোর ভূমিকা

টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস (TASL) এবং পিক্সেল (Pixxel)-এর মতো ভারতীয় সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই মহাকাশ গবেষণায় তাক লাগিয়ে দিয়েছে।

  • নিখুঁত নজরদারি: ভারতের তৈরি এই স্পাই স্যাটেলাইটগুলো মাটির কয়েক সেন্টিমিটার ছোট বস্তুও মহাকাশ থেকে শনাক্ত করতে সক্ষম।

  • দ্রুত উৎপাদন: ইসরোর ওপর চাপ কমাতে বেসরকারি সংস্থাগুলো এখন দ্রুত এবং কম খরচে ছোট ছোট নজরদারি উপগ্রহ (Small Satellites) তৈরি করছে।

ভারতের ‘আকাশপথের গুপ্তচর’ কতটা শক্তিশালী?

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের আসন্ন এই স্পাই স্যাটেলাইটগুলোতে থাকছে বিশেষ SAR (Synthetic Aperture Radar) প্রযুক্তি। এর বিশেষত্ব হলো— মেঘলা আকাশ হোক বা নিকষ কালো রাত, যে কোনো পরিস্থিতিতেই এটি মাটির পরিষ্কার ছবি তুলতে পারে। এর ফলে শত্রুপক্ষের গোপন বাঙ্কার বা সেনাদের আনাগোনা ভারতের নজরের বাইরে থাকবে না।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy