‘মস্তিষ্ক খেকো’ অ্যামিবা নিয়ে আতঙ্ক, বাংলায় ১৬ জনের মৃত্যু! বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা শুনলে শিউরে উঠবেন

করোনা পরবর্তী সময়ে পশ্চিমবঙ্গে এক নতুন আতঙ্ক ছড়িয়েছে— ‘ঘিলু খেকো’ অ্যামিবা। এই এককোষী জীবাণুর সংক্রমণে রাজ্যে এ পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে যারা এই ভয়ংকর রোগ থেকে বেঁচে ফিরেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন হুগলির শ্রীরামপুরের বাসিন্দা ৫৬ বছর বয়সী প্লাম্বার প্রবীর কর্মকার।
পেশায় প্লাম্বার প্রবীর কর্মকার জলের পাইপলাইন বসানো এবং ট্যাঙ্ক পরিষ্কারের কাজ করেন। পরিবারের দাবি, ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাস থেকে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার প্রধান উপসর্গগুলো ছিল ঘন ঘন জ্ঞান হারানো, জ্বর এবং খিঁচুনি। বহু চিকিৎসকের কাছে গিয়েও কোনো লাভ হয়নি।
পরে ৮ এপ্রিল তাকে প্রথমে শিশুমঙ্গল হাসপাতাল এবং সেখান থেকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের সন্দেহ হওয়ায় তার সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড পরীক্ষা করা হয়। রিপোর্টে দেখা যায়, তার মস্তিষ্কে ‘অ্যাকান্থামিবা মেনিনগোএনসেফ্যালাইটিস’ নামের এককোষী অ্যামিবা বাসা বেঁধেছে। প্রায় আড়াই মাস হাসপাতালে থাকার পর তিনি বাড়ি ফিরেছেন, কিন্তু এখনো ভালো করে হাঁটাচলা করতে পারেন না।
প্রবীর কর্মকার জানান, ‘মাথায় পোকা বাসা বেঁধেছিল। প্লাম্বারের কাজ করলেও আমি কখনও নদী বা পুকুরে স্নান করিনি।’
দেউলটির বাসিন্দা দীপঙ্কর ভৌমিকও এই অ্যামিবাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। পেশায় পোস্টাল এজেন্ট দীপঙ্করের পরিবার জানায়, গত বছরের ডিসেম্বরে তার হঠাৎ জ্বর আসে, মাথার সামনের অংশে ও কানে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয়। চিকিৎসার জন্য তাকে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় তিনি কোমায় চলে যান। পরীক্ষা করে তার মস্তিষ্কেও অ্যামিবার উপস্থিতি ধরা পড়ে। প্রায় ৮ দিন কোমায় থাকার পর তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তার ছেলের মতে, নোংরা জল চোখ বা নাক দিয়ে মস্তিষ্কে প্রবেশ করে এই সংক্রমণ ছড়িয়েছে।
সামনেই মহালয়া। এই সময়ে হাজার হাজার মানুষ নদী ও পুকুরে পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণ করতে নামেন। চিকিৎসকরা এই পরিস্থিতিতে সবাইকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, নোংরা জল থেকে এই সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে। যদি কোনো কারণে নোংরা জল নাক বা চোখের সংস্পর্শে আসে, তবে তা মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তাই নদী বা পুকুরে তর্পণের সময় সতর্ক থাকা জরুরি। কলকাতা পৌরসভাও এই বিষয়ে সচেতনতা বাড়াচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, এই রোগের দ্রুত নিরাময়ের জন্য সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।