“মসজিদের জমিতে কমিটির কোনো আইনি অধিকার নেই!” হাইকোর্টে বিস্ফোরণ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের

কলকাতা বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ ও নিরাপত্তা নিয়ে চলা দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক তরজায় নতুন মোড়। বিমানবন্দরে অবস্থিত বাঁকড়া মসজিদের জমিতে মসজিদ কমিটির কোনো আইনি অধিকার নেই বলে বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (AAI)। ১৯৬২ সালেই এই জমি আইনগতভাবে অধিগ্রহণ করা হয়েছিল এবং তার ক্ষতিপূরণও মিটিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে আদালতে দাবি করা হয়েছে।
কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি শুরু হয়েছে। এদিন মসজিদ কমিটি ছাড়া বাকি সব পক্ষ আদালতে নিজেদের বক্তব্য পেশ করে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের আইনজীবী সৌমেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় আদালতে সওয়াল করে জানান, ১৯৬১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেই রানওয়ের প্রয়োজনে ওই জমি অধিগ্রহণের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, এই জমি অধিগ্রহণের পর থেকেই জমির ওপর মসজিদ কমিটির আর কোনো আইনি বৈধতা বা অধিকার থাকে না।
এছাড়াও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তরফে আদালতকে জানানো হয়, রানওয়ের একেবারে কাছে এবং স্পর্শকাতর এলাকায় এই মসজিদ থাকার কারণে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নিরাপত্তার ত্রুটি নিয়ে বেশ কয়েকটি গোপন রিপোর্টও আদালতে তুলে ধরা হয়। সিআইএসএফ-এর (CISF) অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল ধীরজ ত্রিবেদী জানান, রানওয়ে টপকে যেভাবে নমাজ পড়তে লোকজন যাতায়াত করেন, তা বিমানবন্দরের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। পাশাপাশি, ওই এলাকায় বিমান নিরাপদে অবতরণ করানোর ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
অন্যদিকে, রাজ্যের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে যে বহু বছর আগে অধিগ্রহণ করা এই জমি এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিরাপত্তার স্বার্থে যথেষ্ট উদ্বেগজনক। আগামী ৯ অক্টোবর এই মামলায় মসজিদ কমিটি নিজেদের বক্তব্য পেশ করবে। সেদিন তারা কী যুক্তি দেয় এবং আদালত এই বিষয়ে কী নির্দেশিকা দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।